ইসলামাবাদ: পশ্চিম এশিয়ায় চূড়ান্ত ডামাডোল এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই আগামীকাল, ১১ এপ্রিল বিশ্বের নজর কাড়তে চলেছে ইসলামাবাদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর কার্যত খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছিল ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। এবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত এড়াতেই ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠকে মুখোমুখি হতে চলেছে যুযুধান দুই দেশ।
হাই-প্রোফাইল এই বৈঠক ঘিরে পাক রাজধানী এখন নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিলাসবহুল ফাইভ-স্টার ‘সেরেনা হোটেল’-এ আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টের নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শহরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে পাক প্রশাসন। সিল করা হয়েছে পার্লামেন্ট ও দূতাবাস সংবলিত ভিভিআইপি ‘রেড জোন’।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আকাশপথের বেনজির নিরাপত্তা। ইজরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে মাঝ আকাশ থেকে এসকর্ট দিয়ে আনছে খোদ পাক বায়ুসেনার ফাইটার জেট। ‘প্রতিরক্ষামূলক বলয়’ বা প্রোটেক্টিভ শিল্ড তৈরি করতে আকাশে মোতায়েন করা হয়েছে ‘অ্যাওয়াকস’ (AWACS) নজরদারি ব্যবস্থাও।
মার্কিন প্রতিনিধিদের ‘ফুলপ্রুফ’ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তা সত্ত্বেও প্রাক্তন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি আরি ফ্লেইশারের মতো বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বৈঠক মসৃণ করতে সমস্ত প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’র বন্দোবস্ত করেছে ইসলামাবাদ। এখন দেখার, কড়া প্রহরার ঘেরাটোপে আয়োজিত এই কূটনৈতিক বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন কোনও দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে কি না।




















