তেহরান: ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়ঙ্কর হামলা আমেরিকার। (US attack Mashhad)একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমান আজ মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানটি ছিল মাহান এয়ারলাইন্সের (ইরানি ক্যারিয়ার), যা আগামী ১ এপ্রিল দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ান দেওয়ার কথা ছিল। এই ফ্লাইটে ভারত থেকে ১১ টনেরও বেশি মানবিক সাহায্যসামগ্রী, বিশেষ করে ওষুধপত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনাটি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।স্থানীয় সূত্র এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাশহাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে ও পার্কিং এরিয়ায় মার্কিন বিমানবাহিনীর হামলায় বিমানটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। বিমানটি তখন গ্রাউন্ডে ছিল এবং যাত্রী ওঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। সৌভাগ্যবশত, হামলার সময় বিমানে কোনো যাত্রী ছিল না বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ রেকর্ড পতন টাকার দামে! ৯৫ পার করল ডলার, কোন পথে অর্থনীতি?
তবে বিমানের ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।মাহান এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১ এপ্রিল দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল এবং এতে ভারত থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে ১১ টনেরও বেশি মানবিক সাহায্য পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ছিল। ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন।
এই সাহায্য ভারত-ইরানের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। হামলার ফলে এই ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় সাহায্য পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।ইরানি কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে “নিরস্ত্র বেসামরিক বিমানের ওপর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ” বলে নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে মানবিক করিডর এবং বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়নি, তবে চলমান অভিযানে ইরানের বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহান এয়ারলাইন্সকে অনেক দেশ ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করে, যা এই হামলার পিছনে একটি কারণ হতে পারে।



















