ইরানে উর্মিয়া ইউনিভার্সিটির ভারতীয় হোস্টেলের কাছে মিসাইল হামলা

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে ফের আতঙ্ক ছড়াল ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর উর্মিয়াতে (Urmia Iran Airstrike)। আজ বিমান হামলার জেরে শহর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
urmia-iran-airstrike-kashmiri-students-safety-jksa-appeal-india-mea

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে ফের আতঙ্ক ছড়াল ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর উর্মিয়াতে (Urmia Iran Airstrike)। আজ বিমান হামলার জেরে শহর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেখানে পড়াশোনা করতে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর ছাত্র সংগঠন।

সংগঠনটির তরফে জানানো হয়েছে, উর্মিয়ায় অবস্থিত উর্মিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর সঙ্গে তারা সরাসরি কথা বলেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলার শব্দ শোনা যায়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি বিস্ফোরণ তাদের ছেলেদের হোস্টেল থেকে মাত্র প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং হোস্টেলের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

   

আরও দেখুন: কাঁপছে পাকিস্তান! ভারতের আকাশ সুরক্ষায় আসছে আরও ৫ স্কোয়াড্রন S-400 ‘সুদর্শন’

শিক্ষার্থীদের দাবি, শহরের আকাশে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শহর ছেড়ে আশপাশের গ্রাম বা শহরতলির দিকে চলে যাচ্ছেন। ফলে পুরো শহরজুড়ে এখন অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে পড়তে যাওয়া এই তরুণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে একটি অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়েছে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।সংগঠনটি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে। তারা চিঠির মাধ্যমে আবেদন করেছে যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় দূতাবাস যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উর্মিয়ায় থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায়।

তাদের মতে, উর্মিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়া উর্মিয়ার তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে জরুরি ট্রানজিট ভিসা বা নিরাপদ পথের ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। ছাত্র সংগঠনটির দাবি, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং যে কোনও সময় আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শুধু শারীরিক নিরাপত্তাই নয়, এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

এদিকে ভারতে থাকা শিক্ষার্থীদের পরিবারও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানরা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আটকে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.