মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। (Uganda)উগান্ডার সেনাবাহিনীর প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা আজ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে পরাজিত বা ধ্বংস করার কোনও প্রচেষ্টা হলে উগান্ডা সরাসরি যুদ্ধে নামবে এবং তা ইসরায়েলের পক্ষেই।
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে আফ্রিকার দেশগুলির সরাসরি অবস্থান খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি। মুহুজির বক্তব্যে পরিষ্কার, উগান্ডা কূটনৈতিক নিরপেক্ষতার পথ থেকে সরে এসে একটি নির্দিষ্ট জোটের দিকে ঝুঁকছে।
তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক। বিশ্ব এই সংঘাতে ক্লান্ত। কিন্তু কেউ যদি ইসরায়েলকে ধ্বংস করার কথা বলে, তাহলে আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব ইসরায়েলের পক্ষেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ বিশ্ব টিটি চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে খেলতে লন্ডনে যাচ্ছে বাংলার সিন্ড্রেলা
বিশেষ করে ইরান-কে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, যদি তেহরান উগান্ডার উপর মিসাইল হামলা চালায়, তবে উগান্ডাও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করছে, কারণ এতে নতুন নতুন দেশ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুহুজি কাইনেরুগাবা শুধু সেনাপ্রধানই নন, তিনি উগান্ডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি-র পুত্র। ফলে তাঁর এই বক্তব্যকে শুধুমাত্র সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন কূটনীতিকরা। তাদের মতে এই মন্তব্য উগান্ডার সরকারি অবস্থানেরই প্রতিফলন হতে পারে।
উগান্ডা ও ইসরায়েল-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। এই সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। ১৯৭৬ সালে ঘটা এন্টেবে উদ্ধার অভিযান ছিল সেই সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করেছিল।
সম্প্রতি মুহুজি সেই অভিযানে নিহত ইসরায়েলি কমান্ডো ইউনি নেতানিয়াহুর সম্মানে একটি মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। ইউনি নেতানিয়াহু বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাই ছিলেন। এই উদ্যোগ উগান্ডা-ইসরায়েল সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উগান্ডার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই জটিল হচ্ছে, অন্যদিকে বাইরের দেশগুলির সরাসরি অবস্থান নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এদিকে বিশ্বজুড়ে শান্তির আহ্বান জোরালো হলেও, বাস্তবে সংঘাত থামার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও নেই। বরং নতুন নতুন দেশ নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করায় যুদ্ধের পরিধি বাড়ার আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে।



















