মোদীর এক ফোনেই থামবে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ! আশায় UAE

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত। (narendra modi)যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি…

uae-iran-israel-conflict-modi-phone-call-mirza

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত। (narendra modi)যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। ভারতের প্রাক্তন ইউএই রাষ্ট্রদূত হুসেন হাসান মির্জা জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে জড়ানোর কোনও ইচ্ছাই নেই আবু ধাবির। এমনকি ইউএই তাদের ভূখণ্ডকে কোনও পক্ষের সামরিক অভিযানের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহার করতে দেবে না।

এক সাক্ষাৎকারে মির্জা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সত্যি বলতে, আমরা কেন এই সংঘাতে জড়াব বুঝতে পারছি না। এই যুদ্ধে ইউএইর জড়ানোর কোনও কারণই নেই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধের মাঝেও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে আমিরশাহি।

   

ভৌগোলিক দিক থেকে ইউএই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে রয়েছে। একদিকে প্রতিবেশী দেশ ইরান, অন্যদিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তারা। ফলে দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মির্জার মতে, এই অবস্থানই ইউএইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বা মধ্যস্থতা করতে পারি।” অর্থাৎ সংঘাতের মাঝেও আলোচনার পথ খোলা রাখতেই আগ্রহী আবু ধাবি।

আরও দেখুনঃ আদালতের অনুমতিতে ঘরে ফিরছে শার্জিল ইমাম

এই প্রসঙ্গেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। মির্জা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী মহলেও মোদীর যথেষ্ট প্রভাব ও সম্মান রয়েছে। তিনি বলেন, “মিস্টার মোদীর একটিমাত্র ফোন কল ইরান ও ইসরায়েলের নেতাদের কাছে গেলে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব। এক ফোন কলেই এই সমস্যা শেষ হতে পারে।” তাঁর মতে, দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত, যা এই সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

মির্জা আরও বলেন, বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে তা কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতেই সংঘটিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, “তারা একে অপরের বিরুদ্ধে আমাদের মাটিতে যুদ্ধ করছে। এটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ফলে এই পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি সামরিক বিশেষজ্ঞ নন। তবে তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত যে ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশ্যে এসেছে তা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।

এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পরও যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনী মধ্য ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও হিজবুল্লার পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই যুদ্ধের মানবিক মূল্যও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ১,৩৩২ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।