আঙ্কারা: ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় পৌঁছেই ইরানের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের সাথে আর কোনো আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই। তেহরানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে এই যুদ্ধবিরতি শেষ। আমি ওদের সাথে আর কোনো লেনদেন রাখতে চাই না। ওরা মিথ্যাবাদী, প্রতারক এবং অসুস্থ মানসিকতার মানুষ।”
ট্রাম্পের তোপ
ইরানি নেতৃত্বকে সরাসরি ‘অশুভ’ (Evil) আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা খুবই বিপজ্জনক এবং হিংস্র মানুষ। ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ওরা তা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করত। তাই আমাদের লক্ষ্য এখন ইরানকে পরমাণু অস্ত্রবিহীন করা।” প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ৫৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার আঙ্কারায় বসেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই ‘শক্তিশালী’ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কেন এই পরিস্থিতি?
হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরেই নতুন করে এই সংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আক্রমণের মূল্য চোকাতে হবে ইরানকে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং মিসাইল লঞ্চ সাইটগুলোকে ধ্বংস করা। বুধবার ভোর থেকেই ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম দ্বীপ এবং খারগ দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
পালটা পথে ইরান
আমেরিকার বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালটা আঘাত হেনেছে ইরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, ওমান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী লক্ষ্য করে ইরান অন্তত দুটি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির সাতদিনব্যাপী শেষকৃত্যের মাঝেই দুই দেশের এই সামরিক সংঘর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
অনিশ্চয়তায় শান্তি প্রক্রিয়া
গত মাসে স্বাক্ষরিত হওয়া মেমোর্যান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU)-এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিতর্ক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একদিকে আলোচনার আহ্বান আর অন্যদিকে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ, সব মিলিয়ে আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত এখন বিশ্বজুড়ে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





