লাহোর: পাকিস্তানের মাটিতে ফের একবার অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের নিশানায় লস্কর-ই-তৈবা শীর্ষনেতা। লাহোরে এক নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা কুখ্যাত জঙ্গি আমির হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় হামজা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
কে এই আমির হামজা?
আমির হামজা শুধুমাত্র লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই নন, তিনি ছিলেন হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী। আশির দশকে আফগান মুজাহিদিনদের দলে থেকে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর।
তৈবার তাত্ত্বিক নেতা: লস্কর-ই-তৈবার প্রধান মুখপত্র ‘মাজাল্লা আল-দাওয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণ এবং উগ্র মতাদর্শ প্রচারকারী বই ‘কাফিলা দাওয়াত অর শাহাদাত’ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত।
তহবিল সংগ্রহ: মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাঁকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে জঙ্গি নিয়োগ, অর্থ সংগ্রহ এবং বন্দি জঙ্গিদের মুক্তির জন্য আলোচনার কাজ সামলাতেন তিনি।
নতুন সংগঠন: ২০১৮ সালে পাকিস্তান সরকার লস্কর অনুমোদিত সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে হামজা সুকৌশলে দূরত্ব তৈরি করেন এবং ‘জৈশ-ই-মানকাফা’ নামে একটি নতুন গোষ্ঠী তৈরি করেন। অভিযোগ, এই সংগঠনের মাধ্যমেই জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন তিনি।
হামলার ধরণ ও গুরুত্ব
সূত্রের খবর, এদিন লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। হামজার ওপর এই হামলা পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর নেতৃত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমির হামজার ওপর এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সুরক্ষা বাহিনী। হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।




















