টাকা দাও নাহলে যুদ্ধ কর! সৌদির চাপে কালঘাম পাকিস্তানের

ইসলামাবাদ: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে নতুন করে চাপে পড়েছে পাকিস্তান। (Saudi Pakistan defense)একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে…

saudi-pakistan-defense-pact-iran-loan-pressure

ইসলামাবাদ: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে নতুন করে চাপে পড়েছে পাকিস্তান। (Saudi Pakistan defense)একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কার্যত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ।

২০১৫ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল দুই দেশের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে সেটিকে উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, এক দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে অন্য দেশকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

আরও দেখুনঃ দক্ষিণবঙ্গে ফের কালবৈশাখীর তাণ্ডব, একাধিক জেলায় জারি লাল সতর্কতা

কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই চুক্তিকে সামনে এনে বড়সড় কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার যেমন রাস তানুরা এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব চাইছে, পাকিস্তান যেন প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মেনে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।

তবে পাকিস্তান এখনো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক। তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। কিন্তু এই অবস্থানেই অসন্তুষ্ট হয়ে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব পাকিস্তানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে।

সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে তাদের প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দ্রুত ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ইউএই ইতিমধ্যেই তাদের প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি জানিয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বিপুল অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সামনে সমস্যাটা শুধুমাত্র আর্থিক নয়, কৌশলগতও বটে। দেশটির সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তে অস্থিরতা বাড়লে তা সরাসরি পাকিস্তানের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে।

এর পাশাপাশি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও রয়েছে একটি বড় শিয়া জনসংখ্যা। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিলে দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিষয়টিও ইসলামাবাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান একপ্রকার ‘কূটনৈতিক দড়ির ওপর হাঁটা’ অবস্থায় রয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে পাকিস্তান পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তারা চাইছে, সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান করতে। তবে সৌদি আরবের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে চুক্তির শর্ত মানতে হবে, নইলে আর্থিক দায়বদ্ধতা দ্রুত পূরণ করতে হবে।