ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে হত্যা করা হবে অসিম মুনিরকে! হুঁশিয়ারি লস্কর প্রধানের

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর জঙ্গি সংগঠনের প্রভাব যে কত গভীর, (Saifullah Kasuri)তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। লস্কর-ই-তৈবার উপপ্রধান সাইফুল্লাহ কাসুরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর…

saifullah-kasuri-threat-to-asim-munir

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর জঙ্গি সংগঠনের প্রভাব যে কত গভীর, (Saifullah Kasuri)তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। লস্কর-ই-তৈবার উপপ্রধান সাইফুল্লাহ কাসুরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো পাকিস্তানি নেতা যদি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে “হত্যা করা হবে, ধ্বংস করা হবে এবং সম্পূর্ণ বরবাদ করে দেওয়া হবে।”

এই হুমকি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণকে নতুন করে তুলে ধরেছে। যে দেশের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা একসময় লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে লালন-পালন করেছে, আজ সেই গোষ্ঠীর উপপ্রধানই দেশের সর্বোচ্চ নেতাদের খোলাখুলি হুমকি দিচ্ছেন। এটি শুধু একটি বিবৃতি নয়, বরং পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের ওপর জঙ্গিবাদী শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের এক ভয়ঙ্কর প্রমাণ।

   

আরও দেখুনঃ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর দরজায় ধর্না কুনাল-শোভনদেবের

সাইফুল্লাহ কাসুরির এই হুমকি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলো স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে, পররাষ্ট্রনীতির কোনো সিদ্ধান্ত তাদের অনুমতি ছাড়া নেওয়া যাবে না। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

লস্কর-ই-তৈবা ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসেবে পরিচিত। হাফিজ সাইদের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আইএসআই দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী ছায়া যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। কিন্তু এখন সেই হাতিয়ার নিজের স্রষ্টাকেই হুমকি দিচ্ছে। এটি পাকিস্তানের ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন সমস্যা’র এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে ভয়ে কথা বলতে চাইছেন না। একজন লাহোরবাসী নাম প্রকাশ না করে বলেন, “যদি সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীকেও এভাবে হুমকি দেওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে? দেশটা কার হাতে চলছে সেনাবাহিনীর, না জঙ্গিদের?” অন্যদিকে কিছু ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠী এই হুমকিকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে।