
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক নাটকীয় ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনী (Russian oil)একটি রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কারে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে। এই জাহাজটি ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তাড়া করার পর এই বিরল অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগ, জাহাজটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং রাশিয়া-ভেনিজুয়েলা-আমেরিকার ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুবভারতী কাণ্ডের ছায়ায় মেসির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, কি বললেন?
জাহাজটির নাম ‘প্রাইমা’ রুশ পতাকার অধীনে চললেও এটি ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২০২৫ সালের শেষে এই জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এটি ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি করে মাদুরো সরকারকে আর্থিক সাহায্য করছে বলে অভিযোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির অংশ হিসেবে ভেনিজুয়েলার তেল বাণিজ্যে অবরোধ আরও জোরদার করা হয়েছে।
এই জাহাজটি ক্যারিবিয়ান থেকে তেল নিয়ে ইউরোপ বা এশিয়ার দিকে যাচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।মার্কিন নৌবাহিনীর ষষ্ঠ ফ্লিটের জাহাজ এবং হেলিকপ্টার কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ট্যাঙ্কারকে অনুসরণ করছিল। জাহাজটি বারবার রুট বদল করেছে, ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় লুকোচুরি খেলেছে। অবশেষে উত্তর আটলান্টিকের মাঝখানে মার্কিন ফোর্সেস বোর্ডিং অপারেশন চালায়। বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম হেলিকপ্টার থেকে জাহাজে নেমে ক্রুকে নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পুরো জাহাজ তল্লাশি করে।
এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত বিরল সাধারণত জলদস্যুতা বা মাদক পাচারের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য খোলা সমুদ্রে এমন অভিযান প্রায় অভূতপূর্ব।মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজে প্রচুর পরিমাণে ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পাওয়া গিয়েছে। ক্রুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জাহাজটিকে নিকটবর্তী মার্কিন মিত্র দেশের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেছেন, “আমরা ভেনিজুয়েলার অবৈধ তেল বাণিজ্য বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। যারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না সে রুশ জাহাজই হোক বা অন্য কোনো দেশের।” এই অভিযানকে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির অংশ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাশিয়া এবং ভেনিজুয়েলা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে।
রুশ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, “এটা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। খোলা সমুদ্রে জোর করে জাহাজ দখল করা জলদস্যুতার সমান।” ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আমেরিকা আবারও সার্বভৌম দেশের অধিকার লঙ্ঘন করছে। এটা তেল চুরি ছাড়া কিছু নয়।” দু’দেশই রাষ্ট্রসংঘে এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার কথা ভাবছে।





