বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন সামরিক (Indian crew)ও কোস্ট গার্ড বাহিনী এক রাশিয়া পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার Marinera আটক করেছে। এই ঘটনাটি শুধু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে তাই নয়, জাহাজটিতে ২৮ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা খবর দিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন Marinera নামের এই জাহাজটি পূর্বে Bella 1 নামে পরিচিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে নজরে আসে।
জাহাজটি পশ্চিম সংঘাতপূর্ণ তেল পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে লিঙ্কযুক্ত বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।মার্কিন কোস্ট গার্ড এবং সামরিক বাহিনী জাহাজটিকে শুরু থেকে খতিয়ে দেখছিল। এটি প্রথমে ক্যারিবিয়ান সাগরে ধরা পড়ার পর Marinera উত্তর আটলান্টিকের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ট্র্যাক করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত উত্তর আটলান্টিকের মধ্যভাগে আটক করে।
ইডি অভিযানে আই প্যাক পুড়লেও ক্রীড়া মন্ত্রীর উচ্চারণে সরব মমতা
এই অভিযানে আমেরিকা ও ব্রিটেনের যৌথ ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে, যেখানে ব্রিটেন নজরদারি বিমান ও সমুদ্র সংস্থার সহায়তা দিয়েছে। তবে জাহাজটিতে কেবিন বা বহরে ব্রিটিশ কোনো টহলবাহিনী উপস্থিত ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।Marinera মূলত Bella 1 নামে পরিচিত ছিল এবং এটি আগে গায়ানা পতাকায় বিভ্রান্তিকরভাবে নিবন্ধিত ছিল। পরে জাহাজটি রাশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এক প্রাইভেট কোম্পানির মালিকানায় চলে যায় এবং রাশিয়া পতাকা ও নাম ধারণ করে।
এর ফলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও জাহাজের পতাকা রাশিয়া হলেও এর আগের ইতিহাস ও অপকর্মের কারণে এটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে।ক্রুতে মোট ২৮ জন সদস্য থাকা অবস্থায় ছিল ১৭ ইউক্রেনীয়, ছয় জর্জীয়, তিন ভারতীয় এবং দুই রাশিয়ান নাগরিক, পাশাপাশি অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন বিভিন্ন দেশের নাগরিক।মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জাহাজটি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত তেল শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে আটক করা হয়েছে।
তারা বলেছে, জাহাজটি মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের রায় ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করার জন্য যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।এমনকি Marinera-কে আটক করার সময় রাশিয়ান নৌবাহিনী একটি সাবমেরিন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে জাহাজটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী জাহাজটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই আটককে কঠোরভাবে নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জাহাজের ক্রুদের মানবিক আচরণ ও দ্রুত নিজ দেশ পাঠানোর দাবি তুলেছে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় স্থাপিত কোনো রাষ্ট্রীয় জাহাজে সামরিক জোর করা সমীচীন নয় এমনকি তা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রবলভাবে কার্যকর করার সংকল্প প্রতিফলিত হলেও, রাশিয়া–মার্কিন সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে উঠেছে।
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ধরণের আটক আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যার সঙ্গে জড়িত দেশের নিরাপত্তা নীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।এদিকে ভারত সরকার এই ঘটনায় সংযুক্ত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে নিয়েছে এবং উপযুক্ত কূটনৈতিক ফলাফল ও সুরক্ষা প্রদানের আশ্বাস দিচ্ছে।



