কাতারের LNG প্রকল্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১২ ভারতীয়সহ মৃত ১৩

রাস লাফানের বারজান গ্যাস প্রকল্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু। নিহতদের মধ্যে ১২ জন ভারতীয় বলে জানিয়েছে কাতার সরকার।

qatar-ras-laffan-lng-project-explosion-12-indians-killed

নয়াদিল্লি: কাতারের রাস লাফান (Ras Laffan) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) প্রকল্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছেন কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি। ঘটনায় আরও ৬৬ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার রাস লাফানের বারজান (Barzan) গ্যাস প্রকল্পে এই বিস্ফোরণ ঘটে। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় উৎপাদন শুরু করার কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।

   

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বলেন, “আজ আমাকে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৬৬ জন আহত হয়েছেন।”

জরুরি হেল্পলাইন চালু ভারতীয় দূতাবাসের

ঘটনার পরই দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আহত ও নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারকে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কাতার সরকার ও সেখানকার মানুষের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে গিয়েই দুর্ঘটনা

কাতারএনার্জির (QatarEnergy) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকা বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র পুনরায় চালু করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে হতাহতের সংখ্যা কম বলে মনে করা হলেও পরে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মৃত্যুর সংখ্যা ও আহতের প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করে।

ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাতারের জ্বালানি ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

বারজান গ্যাস প্রকল্প কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন প্রায় ১.৪ বিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট গ্যাস উৎপাদন করে এই কেন্দ্র, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পে সরবরাহ করা হয়।

প্রকল্পটির অধিকাংশ মালিকানা কাতার সরকারের হাতে থাকলেও মার্কিন সংস্থা ExxonMobil-এরও অংশীদারিত্ব রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে রাস লাফান এলাকায় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বারজান প্রকল্প বন্ধ ছিল।

বিশ্ববাজারেও প্রভাব পড়তে পারে

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রফতানিকারক দেশ কাতার। ফলে রাস লাফানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে কাতার প্রশাসন।