ঋণ মেটাতে ফাইটার জেট বিক্রি করতে হচ্ছে পাকিস্তানকে

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে (Pakistan)যে, নগদে দেনা শোধের বদলে অস্ত্র বিক্রি করে ঋণ মেটানোর পথ খুঁজছে দেশটি। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ইসলামাবাদ সৌদি আরবের কাছে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
pakistan-selling-fighter-jets-repay-saudi-loan

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে (Pakistan)যে, নগদে দেনা শোধের বদলে অস্ত্র বিক্রি করে ঋণ মেটানোর পথ খুঁজছে দেশটি। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ইসলামাবাদ সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণকে JF-17 থান্ডার ফাইটার জেট সরবরাহের মাধ্যমে পরিশোধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই চুক্তির মোট মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে, যার মধ্যে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত।

রয়টার্সের একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে দুই পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।JF-17 থান্ডার পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উন্নয়নের হালকা মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা পাকিস্তানে উৎপাদিত হয়। এই বিমান রফতানি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্টের পর এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে।

   

কোন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে অগ্নিবীররা অবসর গ্রহণের পর আরেকটি চাকরি পাবেন?

সৌদি আরবের ঋণ পাকিস্তানকে ডিফল্টের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু এখন নগদ সংকটের কারণে ঋণের বদলে অস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।এই ধরনের ‘জেটস-ফর-লোন’ বা ‘অস্ত্র-বদলে-ঋণ’ চুক্তি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থার স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে।

দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে, মুদ্রাস্ফীতি চরমে, এবং IMF-এর সঙ্গে বারবার বেল-আউট প্যাকেজ নিতে হচ্ছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন যে, JF-17-এর রফতানি এতটাই বেড়েছে যে শীঘ্রই IMF-এর ঋণের প্রয়োজন পড়বে না।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র আশাবাদী কথা বাস্তবে অর্থনৈতিক সংস্কারের অভাবে দেশের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।এদিকে, পাকিস্তান JF-17-এর বিক্রি বাড়াতে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে JF-17-এর সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিদ্ধু ও বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে বৈঠকের পর পাক সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, JF-17-এর সঙ্গে সুপার মুশশাক ট্রেনার বিমানের দ্রুত সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এখনও শুধু ‘আগ্রহ’ দেখিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।এছাড়া লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে, যাতে JF-17 অন্তর্ভুক্ত। সুদানের সঙ্গেও ১.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহের আলোচনা চলছে। এই সব মিলিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা রফতানিকে ‘অর্থনৈতিক মডেল’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন এটি দেউলিয়াত্বের লুকানো ছবি। যখন ঋণ শোধের জন্য অস্ত্র বিক্রি করতে হয়, তখন দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। কিন্তু এই প্রস্তাব সৌদি-পাক সম্পর্কের গভীরতা দেখাচ্ছে। সৌদি আরব পাকিস্তানকে বারবার আর্থিক সাহায্য করেছে, এবং এখন সামরিক সহযোগিতা দিয়ে তা ফিরিয়ে নিতে চাইছে। তবে JF-17-এর মতো চীন-নির্ভর বিমান কেনার ক্ষেত্রে আমেরিকার চাপ থাকতে পারে, কারণ সৌদি F-35-এর মতো উন্নত আমেরিকান যুদ্ধবিমানের দিকে নজর রেখেছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google