পাকিস্তানে সংস্কৃতের নতুন অধ্যায়! শাহিদ রশিদের ক্লাসে শ্লোক শিখছে হিজাবি ছাত্রীরা

লাহোর: স্বাধীনতার পর থেকে ৭৮ বছর ধরে যে ভাষাকে (Sanskrit Course)‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই সংস্কৃত আজ ফিরে এসেছে পাকিস্তানের ক্লাসরুমে ।…

pakistan-lums-launches-first-sanskrit-course-shahid-rashid

লাহোর: স্বাধীনতার পর থেকে ৭৮ বছর ধরে যে ভাষাকে (Sanskrit Course)‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই সংস্কৃত আজ ফিরে এসেছে পাকিস্তানের ক্লাসরুমে । লাহোরের লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (এলইউএমএস)-এ প্রথমবারের মতো সংস্কৃত কোর্স চালু হয়েছে।

আর এই ক্লাসে পড়াচ্ছেন একজন মুসলিম শিক্ষক, যিনি বিশ্বাস করেন সংস্কৃত শুধু ভারতের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।ড. শাহিদ রশিদ নামের এই শিক্ষক লাহোরের একমাত্র সংস্কৃত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তাঁর ক্লাসে হিজাব পরা মেয়েরা উৎসাহ নিয়ে ‘নমস্তে’, ‘শ্লোক’ আর প্রাচীন ব্যাকরণ শিখছে। অনেকে বলছেন, এই হিজাবি ছাত্রীরা নাকি ভারতের অনেক ধনী উচ্চবর্ণের যুবকদের চেয়ে ভালো সংস্কৃত উচ্চারণ করছে।

   

আরও দেখুনঃ জ্বলছে PoK! বিক্ষোভ দমাতে ভাতে মারার অমানবিক কৌশল পাকিস্তানের

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ছাত্রী সুন্দর করে ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ বলছে, আর শ্রেণিকক্ষে হাসির রোল উঠছে।শিক্ষক শাহিদ রশিদ বলেন, “সংস্কৃত কোনো একক দেশ বা ধর্মের ভাষা নয়। এটা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ ঐতিহ্য। রামায়ণ-মহাভারত আমাদের সকলের গল্প।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ভাষা শিখলে দুই দেশের মানুষ একে অপরকে আরও ভালো করে বুঝতে পারবে। পার্টিশনের পর এই প্রথম কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃত কোর্স চালু হয়েছে।

আগে শুধু ছোট ওয়ার্কশপ হতো, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দেখে এখন নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়েছে।এই খবর ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে অনেকে এটাকে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন বলে স্বাগত জানিয়েছেন। বলছেন, ভাষা তো মানুষকে কাছে আনে, দূরে ঠেলে দেয় না। অন্যদিকে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, কয়েক বছর পর এই একই ছাত্র-শিক্ষকরা সংস্কৃত গ্রন্থগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে ভারতীয়দের আক্রমণ করতে ব্যবহার করবেন।

বিশেষ করে যখন ভারতের অনেক যুবক ইংরেজির পেছনে ছুটছে, তখন প্রাচীন জ্ঞানের উৎসকে অন্যরা দখল করে নিতে পারে।একজন ভারতীয় কমেন্টেটর লিখেছেন, “এটা কোনো অ্যাসিড ট্রিপের মতো লাগছে। যে দেশে সংস্কৃতির নামে হিন্দু-মুসলিম বিভেদকে ব্যবহার করা হয়, সেখানে হিজাব পরে সংস্কৃত শেখা এটা সত্যি না স্বপ্ন?” কিন্তু বাস্তবে এটা ঘটছে।

লাহোরের ক্লাসরুমে এখন প্রাচীন শ্লোকের ধ্বনিত হচ্ছে।এই ঘটনা আমাদের কয়েকটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। ভাষা কি সত্যিই কোনো ধর্ম বা দেশের একচেটিয়া সম্পত্তি? নাকি এটা সকলের? সংস্কৃত যদি দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ ঐতিহ্য হয়, তাহলে কেন আমরা এতদিন এটাকে বিভেদের হাতিয়ার বানিয়েছি? পাকিস্তানে যদি মুসলিম ছাত্রীরা সংস্কৃত শিখে, তাহলে ভারতে কি আরও বেশি করে শেখার উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়?