এশিয়ান টাইগার হওয়া হল না! পাকিস্তানে বসে শান্তি যেন ‘সোনার পাথরবাটি’

ইসলামাবাদ: কয়েকদিন আগে পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর তার টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, ইসলামাবাদে (Pakistan)আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা সফল হলে পাকিস্তান এক নতুন যুগে প্রবেশ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
pakistan-asian-tiger-us-iran-peace-talks-islamabad-analysis

ইসলামাবাদ: কয়েকদিন আগে পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর তার টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, ইসলামাবাদে (Pakistan)আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা সফল হলে পাকিস্তান এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। তিনি দাবি করেছিলেন, এই আলোচনার সাফল্য পাকিস্তানকে ‘এশিয়ান টাইগারে পরিণত করবে এবং পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সুইডেন, নরওয়ে বা ডেনমার্কের মতো সমৃদ্ধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নাগরিকদের মতো হয়ে উঠবে।

হামিদ মীরের কণ্ঠে ছিল গভীর আশাবাদ যেন এই একটি কূটনৈতিক উদ্যোগই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে। কিন্তু মাত্র দু’দিনের মাথায় সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনা ও যুদ্ধের মধ্যে পাকিস্তান নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আমেরিকান প্রতিনিধিদল এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলেছিল।

   

আরও দেখুনঃ প্রকাশ্যে পুলিশকে টার্গেট করে মন্তব্য, বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল নেতা

পাকিস্তানের সরকার ও গণমাধ্যম এই আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে প্রচার করছিল। হামিদ মীরসহ অনেকে বলছিলেন, এই উদ্যোগ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। ইরান আমেরিকার দেওয়া শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি।

ফলে আমেরিকান প্রতিনিধিদল খালি হাতে ইসলামাবাদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।এই ব্যর্থতা শুধু কূটনৈতিকভাবে নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতাকেও তুলে ধরেছে। যে দেশ নিজের ভিতরে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জর্জরিত, সেখান থেকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করা কতটা অবাস্তব তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। কাশ্মীরে নিরীহ মানুষদের হত্যা, বালুচিস্তানে বালোচ জনগোষ্ঠীর উপর চলা দমন-পীড়ন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় পশতুনদের দৈনন্দিন নির্যাতন এসব ঘটনা পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করে রেখেছে।

কূটনীতিকদের মতে যে রাষ্ট্র নিজের নাগরিকদের প্রতি হিংসা চালিয়ে যায়, সেখানে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সুইডেন বা নরওয়ের মতো সমৃদ্ধি আসবে এমন স্বপ্ন দেখা যেন বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।হামিদ মীরের মতো সাংবাদিকরা যখন এই ধরনের অতিরঞ্জিত বক্তব্য দেন, তখন তা পাকিস্তানি জনগণের মধ্যে মিথ্যা আশা জাগায়। বাস্তবে পাকিস্তানের অর্থনীতি দুর্বল, ঋণের বোঝা ভারী, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব অব্যাহত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে।

এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একটি আলোচনার আয়োজন করে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখানো যায় না। সুইডেন, নরওয়ে বা ডেনমার্কের মতো দেশগুলো শান্তি, গণতন্ত্র, শিক্ষা ও মানবাধিকারের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নেই। পাকিস্তান যদি সত্যিই সেই পথে যেতে চায়, তাহলে প্রথমে নিজের ঘর সামলাতে হবে কাশ্মীর, বালুচিস্তান ও পশতুন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.