ট্র্যাফিক জ্যামে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দেরি! সারা দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হল মন্ত্রীকে

টোকিও: রাস্তায় ভীষণ জ্যাম, কিন্তু পৌঁছতে যে হবেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বলে কথা (Kimi Onoda)। যথারীতি ৫ মিনিট দেরিতে এলেন দেশের মন্ত্রী। তবে তাতেও শেষ…

kimi-onoda-apology-late-cabinet-meeting-japan

টোকিও: রাস্তায় ভীষণ জ্যাম, কিন্তু পৌঁছতে যে হবেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বলে কথা (Kimi Onoda)। যথারীতি ৫ মিনিট দেরিতে এলেন দেশের মন্ত্রী। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হল না। প্রকাশ্যে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন দেরি করে আসা মন্ত্রী। না এই ঘটনা ভারতের নয়, এই ঘটনা জাপানের। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী কিমি ওনোডা (Kimi Onoda) প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ক্যাবিনেট বৈঠকে মাত্র ৫ মিনিট দেরি করে পৌঁছন। আর এই ছোট্ট দেরির জন্য তিনি শুধু ক্ষমা চাননি। প্রেস কনফারেন্স করে পুরো জাপানের জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।

এই ঘটনা জাপানের সময়ানুবর্তিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি ক্যাবিনেট মিটিংয়ের জন্য ওনোডা হাইওয়ে ধরে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি দুর্ঘটনার কারণে ট্র্যাফিক পুরোপুরি আটকে যায়। গাড়ি একদম নড়তে পারছিল না। ফলে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৫ মিনিট দেরিতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে (কান্তেই) পৌঁছান। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি হ্যান্ডব্যাগ হাতে নিয়ে দৌড়ে করিডর পার হচ্ছেন, পাশে সহকারী ছুটছেন।

   

আরও দেখুনঃ উত্তমনগর তরুণ হত্যায় নিজামুদ্দিনের বাড়ি গুঁড়িয়ে বুলডোজার অ্যাকশন

এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কান্তেই ড্যাশ’ নামে ভাইরাল হয়ে যায়।বৈঠক শেষ হওয়ার পরই ওনোডা সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “প্রথমেই আমি ক্ষমা চাইছি। আজকের ক্যাবিনেট বৈঠকে আমি ৫ মিনিট দেরি করেছি। হাইওয়েতে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে ট্র্যাফিক একদম থেমে গিয়েছিল, আমি এগোতে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে আরও ভালোভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করার চেষ্টা করব। আমি সত্যিই দুঃখিত।” তিনি আরও জানান, সাধারণত তিনি ১৫-২০ মিনিট আগে পৌঁছে যান, কিন্তু এবার পরিকল্পনা বি (Plan B) ছিল না।

জাপানে সময়ানুবর্তিতা শুধু অভ্যাস নয় এটি সম্মান, দায়িত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধের অংশ। ট্রেন, বাস, মিটিং সবকিছু সেকেন্ডের মধ্যে চলে। ৫ মিনিট দেরি হলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। এই ঘটনায় ওনোডার ক্ষমা চাওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে বলছেন, “এটাই জাপানি দায়বদ্ধতার সোনার মানদণ্ড।”

এই ঘটনা প্রথম নয়। ২০১৯ সালে অলিম্পিক মন্ত্রী ইয়োশিতাকা সাকুরাদা ৩ মিনিট দেরির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন, যার ফলে বিরোধীরা বৈঠক বয়কট করেছিল। জাপানে পাবলিক ফিগারদের কাছে সময়ের প্রতি এমন শ্রদ্ধা প্রত্যাশিত। ওনোডা, যিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন প্রভাবশালী নেত্রী এবং অভিবাসন নিয়ে কঠোর মতামতের জন্য পরিচিত, এই ঘটনায় নিজের দায়িত্ব স্বীকার করে আরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।