গাজা, লেবাননের পর এবার সিরিয়ায়(Syria) ঢুকে পড়ল ইজরায়েল। বাশর-আল-আসাদের পতনের পর দামাস্কাসের দখল নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের হাতে। কিন্তু সেই দামাস্কাসের দরজায় এবার কড়া নাড়ছে ইজরায়েল (Israel)। সম্প্রতি ইজ়রায়েলি সেনাদের দখলে চলে গেছে, এবং এখন তা দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ইজরায়েলের হামলায় পতন হয়েছে সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর লাতাকিয়ার (Latakia)। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সিরিয়ার মাটিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে নেতানিয়াহুর সেনা। ইজ়রায়েলি সেনা এখন দামাস্কাসের অদূরে পৌঁছে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন রুখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিক ভারত, কেন্দ্রকে আর্জি মমতার
গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইজ়রায়েল দখল করে নেয়। তারপর থেকে, এটি ইজ়রায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও সিরিয়া এই অঞ্চলটির ওপর অধিকার দাবি করে আসছে। গোলান মালভূমির উপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, কারণ এটি দক্ষিণ সিরিয়ার বিশাল এলাকা, বিশেষ করে দামাস্কাসের দিকে নজরদারি এবং সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গোলান মালভূমির ওপর ইজ়রায়েলের দখল নিয়ে একাধিক বিতর্ক রয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মধ্যে দেশের সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ প্রশাসন দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকলেও, এই যুদ্ধের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ইজ়রায়েল। সিরিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে যাওয়ার ফলে, ইজ়রায়েলি সেনাদের জন্য এটি একটি আদর্শ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তারা গোলান মালভূমি সীমান্ত থেকে দামাস্কাসের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায়, ইজ়রায়েলি বাহিনী যে অঞ্চলগুলিতে প্রবেশ করেছে, সেখানে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইন্ডি জোটের মুখ মমতা! আমরাও তো বলছিলাম: বিস্ফোরক বিজেপির মন্ত্রী
বিশ্ব সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইজ়রায়েলি বাহিনীর এই অভিযান সিরিয়ার চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে তীব্র হয়েছে। সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যুদ্ধের মধ্যেই, একদিকে সিরিয়ার সেনা জোরালোভাবে রাজধানী দামাস্কাসে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে, ইজ়রায়েলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সচেষ্ট। এর ফলে, সিরিয়ায় যেভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে, তাতে ইজ়রায়েলের দখল বিস্তার অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ, আরব লীগ, এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ইজ়রায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গোলান মালভূমির দখল নিয়ে যেসব রাষ্ট্রের বিতর্ক রয়েছে, তাদের মধ্যে সিরিয়া অন্যতম। তবে, সিরিয়ার অবস্থা এতটাই সংকটময় যে, তা আন্তর্জাতিক মহলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলেছে।
Bangladesh News: ‘আমি আলাদিনের দৈত্য…গোটা বিশ্ব বদলে দিতে পারি: হুঙ্কার ইউনূসের
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইজ়রায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরো বড় আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সিরিয়ায় ইজ়রায়েলের সামরিক উপস্থিতি এবং গোলান মালভূমির আধিপত্য, যেহেতু তা আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একদিকে, এটি ইজ়রায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে কার্যকর হতে পারে, অন্যদিকে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির স্থায়ী সমাধান পেতে আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইজ়রায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনা এই পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে এই ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


