ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জুমার নামাজের সময় একটি শিয়া মসজিদে (Islamabad)ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস বা আইএসআইএস)। হামলাটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ইসলামাবাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তারালাই কালান এলাকার খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে ঘটে।
এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ে পাকিস্তানের রাজধানীতে এ ধরনের সবচেয়ে মারাত্মক হামলা বলে বিবেচিত হচ্ছে।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জুমার নামাজ চলাকালীন মসজিদে ভিড় ছিল প্রচুর। হামলাকারী প্রথমে মসজিদের নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তারপর বিস্ফোরক ভর্তি ভেস্ট ফাটিয়ে দেয়।
আরও দেখুন: চোট ধাক্কায় কাবু ভারতের সম্ভাব্য একাদশে বিশেষ চমক!
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ভিতরে কাচের টুকরো, ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উদ্ধারকর্মীদের হতাহতদের বহন করতে দেখা গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই আইএসের ‘পাকিস্তান প্রদেশ’ শাখা তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সংগঠনটির আমাক নিউজ এজেন্সি দাবি করে যে, হামলাকারীর নাম ‘সাইফ আল্লাহ আল-আনসারি’। বিবৃতিতে হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সে অস্ত্র হাতে দেখা যাচ্ছে মুখ ঢাকা এবং চোখ ঝাপসা করা। আইএস এ ধরনের হামলাকে ‘শিয়া মন্দির’ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেছে।
সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের মতো জঙ্গি-নজরদারি সংস্থা এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।এই হামলা পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর চলমান লক্ষ্যবস্তু হামলার ধারাবাহিকতা। আইএসের খোরাসান শাখা (আইএসআইএস-কে) এবং অন্যান্য স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিয়াদের টার্গেট করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আক্রমণ আইএসের ‘ক্লাসিক’ পদ্ধতি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা।
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই গোষ্ঠীগুলো এখন রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে নজর দিচ্ছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক মাসে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা।পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই হামলার নিন্দা করেছে।এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দেশটিতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াই চললেও, আইএসের মতো গোষ্ঠীগুলো নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অনেকে বলছেন যে জুমার নামাজে যাওয়াটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















