মার্কিন রণতরী লক্ষ্যবস্তু হুমকি ইরানের, বাড়ছে পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ উত্তেজনা

তেহেরান: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরানের সংঘাত (Middle East Crisis) ক্রমশ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান সরাসরি হুমকি দিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (CVN-72) যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
iran-threatens-us-aircraft-carrier-uss-abraham-lincoln-Middle East Crisis

তেহেরান: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরানের সংঘাত (Middle East Crisis) ক্রমশ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান সরাসরি হুমকি দিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (CVN-72) যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে আসে, তাহলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, “শত্রু বিমানবাহী রণতরীর গতিবিধি আমাদের নজরে রয়েছে। যখনই এটি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসরে আসবে, তখনই শক্তিশালী আঘাত করা হবে।”

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইতিমধ্যে উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং এতে রণতরীটিকে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, রণতরীটি সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

   

ইরানের হামলা ও আমেরিকা-ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণ

ইরান সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে, যা মূলত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানগুলো রাত্রিকালীন অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে উচ্চ সতর্কতা

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুবাই ও দোহার মতো প্রধান শহরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পথ হরমুজ প্রণালী এখন হুমকির মুখে। এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাংলার দৃষ্টিকোণ

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অনেক পরিবার পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত। এই সংঘাত যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সোনা-এলপিজির মতো পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে সোনার দাম বেড়েছে এবং এলপিজি সরবরাহেও চাপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।