পাকিস্তানে কোনও আলোচনা নয়! স্পষ্ট করল ইরান

iran-rejects-pakistan-talks-us-diplomacy-tension

ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগায়ী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, (Iran rejects Pakistan)“পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনার কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরান-আমেরিকার মধ্যে চলতি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঠিক একই সময়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করছেন।

এই সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য। কিন্তু ইরানের এই সরাসরি ‘না’ বলা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাগায়ী বলেছেন, আমেরিকা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং আলোচনার প্রক্রিয়ায় আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ দশম শ্রেণি পাশ যুবকদের জন্য সিআরপিএফ-এর ৯,১৯৫টি পদে আবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ

এদিকে ভ্যান্স, উইটকফ ও কুশনারের পাকিস্তান সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এই সফর কি শুধু ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনার জন্য, নাকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন? ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বাইসারান উপত্যকায় পর্যটকদের উপর চালানো নৃশংস হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান।

ভারত সরকার স্পষ্টভাবে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে।ভারতের তরফে ‘অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন যখন আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তখন অনেকে অনুমান করছেন যে, পহেলগাঁও হামলার পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ তো সরাসরি বলছেন, “আসিম মুনির কীভাবে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, তা বোঝার জন্যই কি এই সফর?” যদিও হোয়াইট হাউস এখনও এমন কোনো অভিযোগ স্বীকার করেনি। তারা বলছে, সফরের মূল উদ্দেশ্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা।