ইসলামী প্রতিবাদের শাস্তি! তরুণ কুস্তিগীরকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিল ইরান

তেহরান: ফের নির্লজ্জতার পরিচয় দিল ইরান। (Iran protest execution)১৯ বছরের তরুণ কুস্তিগির সালেহ মোহাম্মাদি-কে কোম শহরে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আরও দুজন মেহদি গাসেমি এবং সাঈদ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-protest-execution-2026-wrestler-public-hanging

তেহরান: ফের নির্লজ্জতার পরিচয় দিল ইরান। (Iran protest execution)১৯ বছরের তরুণ কুস্তিগির সালেহ মোহাম্মাদি-কে কোম শহরে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আরও দুজন মেহদি গাসেমি এবং সাঈদ দাভুদি একই দিনে একইভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই তিনজনকে জানুয়ারি ২০২৬-এর বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত করে অভিযোগ আনা হয়েছিল। চাপানো হয় দুজন পুলিশ অফিসারের হত্যার দায়। ইরানের বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট মিজান নিউজ এজেন্সি এই ফাঁসির কথা নিশ্চিত করেছে।

সালেহ মোহাম্মাদি ছিলেন ইরানের জাতীয় কুস্তি দলের একজন উদীয়মান তারকা। ২০০৭ সালের ১১ মার্চ জন্মগ্রহণকারী এই তরুণ ২০২৪ সালে রাশিয়ার সাইতিয়েভ কাপে ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্যের দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৫ জানুয়ারি গ্রেফতার হন তিনি। পরে কোম ক্রিমিনাল কোর্টে ‘মোহারেবেহ’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) এবং খুনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ চৈত্রে কালবৈশাখীর দাপট, ফের বৃষ্টিতে ভিজবে একাধিক জেলা

ফেব্রুয়ারিতে এই রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিবাদ উঠলেও তা রোধ করা যায়নি।ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ১৯ মার্চ, ২০২৬-এর ভোরে কোম সেন্ট্রাল প্রিজনে, যদিও কিছু সূত্র বলছে এটি প্রকাশ্যে নাবুত স্কয়ারে হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ বলেছে, তিনজন ‘ঠান্ডা অস্ত্র’ নিয়ে অবৈধ সমাবেশে অংশ নিয়ে দুজন সিকিউরিটি ফোর্স এজেন্টকে হত্যা করেছে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেমন হেঙ্গাও, ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারকে ‘শাম ট্রায়াল’ বলে অভিহিত করেছে।

অভিযোগ করা হয়েছে যে, সালেহসহ তিনজনকে নির্যাতন করে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি, বিচার প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়েছে, আপিলের সুযোগ ছিল না। সালেহ নিজে আদালতে বলেছিলেন, তার স্বীকারোক্তি নির্যাতনের ফল।এই ঘটনা ইরানের বিরোধীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

জানুয়ারি বিক্ষোভ ছিল সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় অসন্তোষের প্রকাশ, যেখানে অর্থনৈতিক সংকট, দমনমূলক নীতি এবং নারী অধিকারের প্রশ্ন উঠেছিল। সরকার এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং এই ফাঁসি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটা রাজনৈতিক হত্যা যাতে সমাজকে ভয় দেখিয়ে দমন করা যায়। কুস্তিগিরদের লক্ষ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, কারণ অতীতে নাভিদ আফকারির মতো ক্রীড়াবিদদেরও একইভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.