মিসাইলে বিধ্বস্ত ইসরায়েলের পারমানবিক কেন্দ্র! দাবি ইরানের

তেহরান: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে এমনই জানা গিয়েছে (Iran missile strike)। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে ইরানের ফাত্তাহ ও খাইবার মিসাইল দিয়ে নেগেভ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-missile-strike-dimona-nuclear-facility-claim

তেহরান: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে এমনই জানা গিয়েছে (Iran missile strike)। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে ইরানের ফাত্তাহ ও খাইবার মিসাইল দিয়ে নেগেভ মরুভূমির দিমোনা পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান লিক হচ্ছে। এই দাবি মার্চ ১, ২০২৬-এর রিপোর্ট হিসেবে প্রচারিত হলেও, আন্তর্জাতিক মিডিয়া বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলা হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং এলাকায় মিডিয়া ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়েছে বলে খবর।দিমোনা ইসরায়েলের সবচেয়ে গোপনীয় ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর একটি। এখানে প্লুটোনিয়াম উৎপাদনকারী রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যা ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু বলে বিশ্বাস করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাপনা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল।

   

আরও দেখুন: ভোটার তালিকা ইস্যুতে পথে নামছে তৃণমূল, ৬ মার্চ ধর্নায় বসার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে। ইসরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের নাতানজ, ফোর্দো ও ইসফাহানের মতো পারমাণবিক সাইটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুসহ শীর্ষ নেতৃত্বের নিশানা নেওয়া হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান একাধিকবার মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তেল আবিব, জেরুসালেমসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়।

সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, ইরান ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে দিমোনায় আঘাত করে। নেগেভ অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিছু সূত্র দাবি করছে যে হাইপারসনিক মিসাইলের সরাসরি আঘাতে রিঅ্যাক্টরের কনটেইনমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয়, ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং লাখো মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দিমোনার আশপাশের বেয়ারশেবা শহর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ু প্রবাহের দিক অনুযায়ী রেডিয়েশন ছড়াতে পারে বলে পুরনো গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।তবে এই খবরের সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানিয়েছে যে দিমোনা ধ্বংস বা রেডিয়েশন লিকের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। কিছু ভাইরাল ভিডিও পুরনো (যেমন ২০১৭ সালের ইউক্রেনের গুদাম বিস্ফোরণ) এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে রেডিয়েশন বৃদ্ধির খবর আসেনি। ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো সিস্টেমের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী, এবং দিমোনার মতো স্থাপনা গভীর ভূগর্ভস্থ ও সুরক্ষিত। ইরানের মিসাইল স্টকও ২০২৫-এর হামলার পর অনেক কমে গেছে, যা বড় আকারের সফল হামলার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.