কুয়েত: সকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন এক উত্তেজনা। (Iran missile attack)কুয়েতের আকাশসীমায় তিনটি আমেরিকান যুদ্ধবিমান ইরানি মিসাইলের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের তৃতীয় দিনে ঘটেছে। ইরান খামেনেই র মৃত্যুতে প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে “কয়েকটি” আমেরিকান যুদ্ধবিমান ক্র্যাশ করেছে এবং সব পাইলট ও ক্রু সদস্য নিরাপদে প্যারাশুট দিয়ে বেঁচে গেছেন।
তবে ঠিক কয়টি বিমান এবং কী কারণে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়ছে। পাইলট প্যারাশুট খুলে নিরাপদে অবতরণ করেছেন, এমনকি কুয়েতের স্থানীয়রা তাদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে খবর। সিএনএন-এর ভিডিও বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি এফ-১৫ই মডেলের।
আরও দেখুন: গোর্খাল্যান্ড নয়তো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল! ভোটের আগে পাহাড় ইস্যুতে চাপে বিজেপি?
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ দাবি করেছে যে তাদের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই বিমানগুলোকে গুলি করে ফেলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের প্রত্যক্ষ প্রতিশোধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।কুয়েতের আল-জাহরা এলাকায় বিস্ফোরণের ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সকালে “শত্রুতাপূর্ণ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু” আটকাতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু বিমান ক্র্যাশের কারণ হিসেবে ইরানি মিসাইল বা ড্রোনের উল্লেখ করেনি। অনেক সূত্রে বলা হচ্ছে যে এটি সম্ভবত “ফ্রেন্ডলি ফায়ার” বা ভুল করে কুয়েতি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের আঘাতে ঘটেছে। কারণ কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গাল্ফ দেশগুলোতে ইরানি মিসাইল ও ড্রোনের আক্রমণের মুখে আমেরিকান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভিড়ভাট্টা আকাশসীমায় ভুল শনাক্তকরণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই ঘটনা সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চলবে যতক্ষণ না ইরান আত্মসমর্পণ করে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো আলোচনায় যাবে না। গাল্ফ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানি আক্রমণ অব্যাহত ক্যাম্প আরিফজানে তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে, আরও কয়েকজন আহত। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে ধোঁয়া দেখা গেছে, যদিও সরাসরি আঘাতের নিশ্চয়তা নেই। এয়ারস্পেস বন্ধ, তেলের দামে উত্থান এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ছে।



















