
তেহরান: ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধে ভারত থেকে যথেষ্ট সাহায্য নিয়েছে ইরান। (Strait of Hormuz)চিকিৎসা সামগ্রী থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য সব কিছুই ভারত সরকারের তরফ থেকে গিয়েছে ইরানে। তার পরেও এমন ব্যবহার শেষে কিনা হমুজ প্রণালীতে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আক্রমণ করল IRGC। ১০ টি ভারতীয় জাহাজ এই ঘটনায় হরমুজ পেরোতে না পেরে ফিরে গিয়েছে এই ঘটনায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ভারত। তাই তড়িঘড়ি দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল ইরানের রাষ্ট্রদূতকে।
পশ্চিম এশিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ফের উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এবার সরাসরি ভারতীয় স্বার্থে আঘাত হানার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চ্যানেল ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক সূত্রের দাবি, আজ বিকেলে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর গানবোট।
আরও দেখুনঃ নেপালের কড়া শুল্কে মাথায় হাত বিহারের সীমান্ত ব্যবসায়ীদের !
সূত্রের খবর, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আচমকাই এই গুলি চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়ম ভঙ্গের সামিল বলেই মনে করছে ভারত। যদিও স্বস্তির খবর, হামলার পর জাহাজ দুটি নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং জাহাজে থাকা ভারতীয় ক্রুরা আপাতত সুরক্ষিত রয়েছেন। তবুও এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে।
এই ঘটনার পরপরই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) খুব শীঘ্রই দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করতে পারে। আজ রাতেই অথবা আগামীকাল ভোরে তাঁকে ডেকে পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এই তলবের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, এ ধরনের ‘অপ্ররোচিত’ হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
ভারত সরকারের তরফে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ এবং তেল ট্যাঙ্কার যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের উপর।
এদিকে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় নৌবাহিনী। প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও নজরদারি ব্যবস্থা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

