
কাতার: ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ার বেসে আক্রমণ চালিয়েছে (Iran drone attack)। কাতারের রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মিসাইল এবং ড্রোন হামলা এখনও চলছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইলের মধ্যে একটি আটকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্যটি ঘাঁটির ভিতরে আঘাত হেনেছে। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই হামলা ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।আল-উদেইদ এয়ার বেস মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার্স। এখানে প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনা এবং বিমান বাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান রয়েছে। এই ঘাঁটি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযান পরিচালিত হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলাকে “প্রতিশোধমূলক” বলে দাবি করেছে। এটা চলমান যুদ্ধের অংশ, যা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানে সমস্ত রকম বিনিয়োগ বাতিল করল সৌদি
ইরান এখন গাল্ফ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ছে।কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানের দিক থেকে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন আসছে। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বেশিরভাগ আটকে দিয়েছে, কিন্তু একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটিতে পড়েছে। কোনো হতাহত না হলেও, ঘাঁটির রাডার, কমিউনিকেশন বা অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কাতার বলছে, তারা পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং আক্রমণ চললে আরও প্রতিরোধ করবে।
এর আগে ইরানের দুটি সোভিয়েত-যুগের সু-২৪ বোমারু বিমান ঘাঁটির দিকে এগিয়ে আসছিল, কিন্তু কাতারি যুদ্ধবিমান তাদের দুই মিনিটের মধ্যে গুলি করে ফেলে দেয়। এটা কাতারের ইতিহাসে প্রথম এয়ারিয়াল কমব্যাট।ইরানের এই হামলা গাল্ফের অন্যান্য দেশকেও আতঙ্কিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত সব জায়গায় মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের খবর আসছে।
ইরান বলছে, এগুলো মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে, কিন্তু কাতারের মতো দেশগুলো বলছে যে এটা তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। কাতার প্রধানমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে আক্রমণের নিন্দা করেছেন। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া দাবি করছে যে তারা আল-উদেইদের রাডার সিস্টেম “অন্ধ” করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিওতে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

