দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলার খবরে পুরো বিশ্ব চমকে উঠেছে (Iran drone attack)। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলির মধ্যে একটি এই DXB-তে হঠাৎ ড্রোন আঘাত হেনেছে, ফলে সমস্ত বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের একটা নতুন অধ্যায় ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন-সমর্থিত দেশগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৭ মার্চ ২০২৬-এর সকালে। আল জাজিরা এবং অন্যান্য মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন রানওয়েতে আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী উঠেছে। যাত্রীরা ধোঁয়ায় ভরা প্যাসেজওয়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়েছে, চারদিকে আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। দুবাই এয়ারপোর্টসের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, টার্মিনালে সীমিত ক্ষতি হয়েছে এবং চারজন স্টাফ আহত হয়েছেন। জরুরি দলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করেছে।
আরও দেখুনঃ গ্যাসের দাম বাড়তেই সরব মুখ্যমন্ত্রী, রবিবার ধর্মতলা থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক
যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরে কিছু ফ্লাইট আংশিকভাবে চালু হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ বিমান ডাইভার্ট করা হয়েছে আবু ধাবি বা অন্যান্য বিমানবন্দরে।এই হামলা ইরানের বড়সড় প্রতিশোধের অংশ। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর তেহরান প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ৯৪১টিরও বেশি ড্রোন, ১৮৯টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কয়েকটি ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে।
ইউএই-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইল আটকে দেওয়া হয়েছে ৫০৬টি ড্রোন আটকানো হয়েছে, কিন্তু ৩৫-৪৪টি আঘাত হেনেছে। এর ফলে পাম জুমেইরাহ-এর ফেয়ারমন্ট হোটেলে আগুন লেগেছে, বুর্জ আল আরবের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে, এমনকি ইউএস কনস্যুলেটের পার্কিং লটে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৫৮-৭৮ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দুবাইয়ের মতো একটা জায়গা, যেখানে লাক্সারি, নিরাপত্তা আর ব্যবসার প্রতীক, সেখানে এই ধরনের হামলা অভাবনীয়। বিমানবন্দরটি বছরে ৯৫ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী হ্যান্ডেল করে। এখন ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। অনেকে হোটেলে ফিরে গেছেন, কেউ কেউ বিমানবন্দরের মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। স্কুল বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির।
ইউএই সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, বলেছেন যে এটা যুদ্ধের অংশ, কিন্তু তার পরেও নতুন ড্রোন হামলা হয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।



















