তেহরান: যুদ্ধে আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। এই আবহেই ফের বড় ধাক্কা খেল ইরান (Mohsen Darrebagi)। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় এবার নিহত হয়েছেন ইরানের বায়ুসেনার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন দাররেবাগি। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের লজিস্টিক্স ও সাপোর্টের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই হামলায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের উপর ব্যাপক আঘাত নেমে এসেছে। মোহসেন দাররেবাগির মৃত্যু ইরানের বায়ু প্রতিরক্ষা ও লজিস্টিক্স ব্যবস্থায় শুন্যস্থান তৈরি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে। গত কয়েকদিনে তেহরান ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে। এতে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই, আর্মড ফোর্সেসের চিফ অব স্টাফ আবদোলরাহিম মুসাভি, ডিফেন্স মিনিস্টার আজিজ নাসিরজাদেহসহ অনেক সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এবং টাসনিম নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে, মোহসেন দাররেবাগি (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ রূপনারায়ণ নদীতে নতুন প্রজাতির মাছ! গবেষকরা নাম রাখলেন বুটিস বর্গভীমি
তিনি বায়ুসেনার পাইলট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে পরে লজিস্টিক্স, রেডিনেস এবং সাপোর্টের মতো ক্রুশিয়াল পদে প্রমোশন পেয়েছিলেন।ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এবং মার্কিন সূত্র বলছে, এই হামলাগুলো ইরানের নিউক্লিয়ার সাইট, মিসাইল বেস এবং সামরিক নেতৃত্বের টার্গেট করে চালানো হয়েছে। মোহসেন দাররেবাগির দায়িত্ব ছিল বায়ুসেনার লজিস্টিক্স ও সাপোর্ট নিশ্চিত করা, যা ইরানের ড্রোন, মিসাইল এবং বায়ু অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘ডেডলি অপারেশন’-এর পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে প্রক্সি গ্রুপের মাধ্যমে হামলা, ড্রোন অ্যাটাক এবং মিসাইল লঞ্চ অন্তর্ভুক্ত। তার মৃত্যু ইরানের এই ধরনের অপারেশনের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা।ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, ৪০-এরও বেশি সিনিয়র নেতা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন এই অভিযানে।
তেহরানে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, জুডিশিয়ারি চিফ গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং অন্যান্যদের নিয়ে। কিন্তু সামরিক কমান্ড চেইনে এত বড় ক্ষতি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ইরানের ক্লেরিক্যাল সরকারকে টার্গেট’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েল বলছে, এটা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ইরানের নিউক্লিয়ার ও মিসাইল হুমকি মোকাবিলায়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের হুমকি উঠেছে। ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলা চলছে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটির দিকে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া আরও গাঢ় হয়েছে।



















