ওয়াশিংটন: ইরান যখন আমেরিকার মুখোমুখি যুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুতে যখন শোকাতুর দেশ, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য কাঠগড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয়দের কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা এবং ভারতকে ‘নরক’ বলে অভিহিত করা একটি পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই ঘটনার জেরে ট্রাম্পের ওপর যেমন ক্ষুব্ধ বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা, তেমনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
প্রেসিডেন্ট নাকি রিয়্যালিটি শো-র বিচারক?
মার্কিন হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পকে ধুয়ে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “দেশ যখন যুদ্ধের মধ্যে, হাজার হাজার আমেরিকান বিপদে, তখন প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবাদী আবর্জনা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্সি পদটাকে যেন রিয়্যালিটি টিভির আসর বানিয়ে ফেলেছেন।” ডেমোক্র্যাটদের দাবি, বর্তমান সময়ে আমেরিকার একজন দায়িত্বশীল নেতার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ট্রাম্পের আচরণ তার উল্টো।
কী ছিল সেই বিতর্কিত ভিডিওতে? Donald Trump Racist Video Sparks
মাইকেল সেভেজ নামে এক কট্টরপন্থী রেডিও সঞ্চালকের ভিডিও শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। যেখানে সেভেজ দাবি করেছেন, ভারত বা চীনের মতো ‘নরক’ থেকে গর্ভবতী মহিলারা শেষ মুহূর্তে আমেরিকায় আসেন শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে। ভিডিওতে ভারতীয়দের সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ থেকে এই বিতর্কিত বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভারতের কড়া জবাব
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একে ‘অত্যন্ত নিম্নরুচির’ এবং ‘ভুল তথ্যে ভরা’ কাজ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানান, “এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।” পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আসরে নামে মার্কিন দূতাবাস। তারা ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে জানায়, ট্রাম্প ভারতকে একটি মহান দেশ মনে করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর খুব ভালো বন্ধু। যদিও ভারত সরকার এই সাফাইতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।
মোদীর নীরবতা নিয়ে তোপ খাড়গের
দেশের অপমান নিয়ে কেন প্রধানমন্ত্রী নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, “মোদীজি কার ভয়ে চুপ? ট্রাম্প ভারতকে গালি দিচ্ছেন আর আপনি একটা কথাও বলছেন না কেন? আমেরিকার সাফল্যে ভারতীয়দের অবদান সবথেকে বেশি, তবুও কেন সর্বোচ্চ স্তরে এর প্রতিবাদ হচ্ছে না?” খাড়গের দাবি, বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে নীতিগত সিদ্ধান্ত, সব ক্ষেত্রেই মোদী ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছেন।
ইরান যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের আবহে ট্রাম্পের এই ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ অবস্থান নতুন করে ভারত-মার্কিন সমীকরণকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।




















