ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক অসাধারণ ঘটনা ঘটে গেল। (CIA Ghost Murmur)আমেরিকার একজন বিমানচালক, যাঁর যুদ্ধবিমান ইরানি বাহিনীর গুলিতে ধ্বংস হয়েছিল, তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শত্রু এলাকায় আটকে ছিলেন। চারপাশে শত্রুসেনা তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু তিনি যেখানে লুকিয়ে ছিলেন, সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এক অভিনব গোপন প্রযুক্তির সাহায্যে। সেই প্রযুক্তির নাম ‘গোস্ট মার্মার।’
সিআইএ-র একটি গেম-চেঞ্জিং অস্ত্র, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকে শুধুমাত্র মানুষের হৃদস্পন্দন ট্র্যাক করে ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে পারে।নিউইয়র্ক পোস্ট-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, এই প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো মাঠে ব্যবহার করা হয়েছে এই উদ্ধার অভিযানে। আমেরিকার এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য ছিটকে পড়েন। একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়।
আরও দেখুনঃ শক্তি বৃদ্ধি বায়ুসেনার! ৬০০টি ১০০০ কেজি ওজনের ‘সুপার বাঙ্কার বাস্টার বোমা’ তৈরি করছে ভারত
কিন্তু দ্বিতীয়জন, যিনি একজন অস্ত্র ব্যবস্থাপক (ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার), তিনি পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁর কাছে শুধু একটি পিস্তল এবং সীমিত সিগন্যাল ডিভাইস ছিল। ইরানি বাহিনী তাঁকে ঘিরে ফেলছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিআইএ তাদের গোপন টুল ‘গোস্ট মার্মার’ চালু করে।এই প্রযুক্তির কাজের পদ্ধতি একেবারে সায়েন্স ফিকশনের মতো। এটি লং-রেঞ্জ কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি ব্যবহার করে মানুষের হৃদয়ের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনেচার বা ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ শনাক্ত করে।
প্রতিটি মানুষের হৃদস্পন্দনের একটি অনন্য ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্যাটার্ন থাকে। এই টুল সেই প্যাটার্নকে মাইলের পর মাইল দূর থেকে ধরতে পারে। তারপর অত্যাধুনিক এআই সফটওয়্যার সেই সিগন্যালকে পরিবেশের অন্যান্য শব্দ যেমন বাতাস, ভূমিকম্পের সূক্ষ্ম কম্পন, অন্য প্রাণীর হৃদস্পন্দন বা ইলেকট্রনিক নয়েজ থেকে আলাদা করে ফেলে। ফলে শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তুর হৃদস্পন্দনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।সূত্রগুলো জানিয়েছে, লকহিড মার্টিনের গোপন বিভাগ ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’-এ এই প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে।
নামটিও খুব চিন্তা করে রাখা হয়েছে। ‘মার্মার’ শব্দটি চিকিৎসাশাস্ত্রে হৃদস্পন্দনের ছন্দকে বোঝায়, আর ‘গোস্ট’ মানে এমন কাউকে খুঁজে বের করা যে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। একজন সূত্র বলেছেন, “যদি তোমার হৃদয় স্পন্দিত হয়, তাহলে আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব।” ইরানের দুর্গম এলাকায় এই টুলটি কাজ করেছে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাইলটকে ৪০ মাইল দূর থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।



















