ইসলামাবাদ: প্রত্যেকদিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বালোচ বিপ্লব এবং সেই সঙ্গে বিপ্লবীরা (suicide attackers)। সাত সকালে গোটা পাক কনভয় উড়িয়ে দিয়ে আরও একবার সতর্ক করে দিয়েছিল তারা। এবার বালোচিস্তানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি একটা চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে দুই মহিলা আত্মঘাতী যোদ্ধার ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে, যাঁরা পাকিস্তানি সেনা ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ নিয়েছিলেন।
এই ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বিএলএ তাদের লড়াইয়ে মহিলাদের ভূমিকাকে সামনে এনেছে, যা বালোচ সংগ্রামের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোষ্ঠী দাবি করেছে, ‘অপারেশন হেরোফ ২’-এর এই আক্রমণে ২০০-এরও বেশি পাক সেনা নিহত হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুই মহিলা একজন ফিদায়িন সঙ্গত হাওয়া বালোচ এবং অন্যজন ফিদায়িন সঙ্গত আসিফা মেঙ্গল (নোশকি)।
হিন্দু খুনের প্রতিবাদে মার্কিন মুলুকে ছড়াল ইউনুস বিরোধী আন্দোলনের আগুন
বিএলএ-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাওয়া বালোচ (আলিয়াস দ্রোশুম) গোয়াদরে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। তাঁর শেষ বার্তার একটা ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে, যা আক্রমণের ১২ ঘণ্টা আগে রেকর্ড করা। ভিডিয়োতে তিনি অন্য বালোচ মহিলাদের সশস্ত্র লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আসিফা মেঙ্গল (বয়স ২৩-২৪) এমজিড ব্রিগেডের সদস্য।

তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবরে ২১ বছর বয়সে যোগ দেন এবং ২০২৪-এর জানুয়ারিতে আত্মঘাতী মিশনে স্বেচ্ছায় যান। বিএলএ দাবি করেছে, আসিফা নোশকিতে ইন্টার-সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স সদর দফতরে ভিবিআইইডি হামলা চালিয়েছেন এবং সেখানেই শহিদ হয়েছেন।এই আক্রমণগুলি ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ-২’-এর অংশ, যা গোয়াদর, নোশকি, হাব, চামান, মাকরানসহ একাধিক জায়গায় সমন্বিতভাবে চালানো হয়েছে।
বিএলএ-র মতে, এতে আইইডি, গুলি, আত্মঘাতী হামলা সব মিলিয়ে পাক সেনা, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের বড় ক্ষতি হয়েছে। তারা দাবি করছে, ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে ২০০-এর বেশি পাকিস্তানি সেনা মারা গেছে। মহিলা যোদ্ধাদের ব্যবহারকে তারা ‘নতুন যুগের’ প্রতীক বলে তুলে ধরেছে।পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, আক্রমণগুলি প্রতিহত করা হয়েছে।
বালোচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, কাউন্টার অপারেশনে ১৪০-১৭৭ জন বিদ্রোহীকে মারা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নিশ্চিত করেছেন যে অন্তত দুটো আক্রমণে মহিলা অংশ নিয়েছিলেন। পাক মিডিয়া অনুযায়ী, নিহত হয়েছে ১০-১৭ জন সেনা ও পুলিশকর্মী এবং কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। পাক সেনা দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে দাবি।




















