ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদার জেলার জিওয়ানি (bla attack)এলাকায় অবস্থিত পানওয়ানে পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডদের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, হামলায় ৩০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা ও কোস্ট গার্ড সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিএলএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর ওই ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। এটিকে তারা “অধিকৃত বালুচিস্তানে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, হামলাকারী তাদের একজন সদস্য ছিলেন এবং তিনি ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ ‘ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন..’, বিমান ছিনতাইয়ের স্মৃতি টেনে পাকিস্তানকে চরম কটাক্ষ কৌশিকনের
গোয়াদার বন্দর চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপেক) প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে চিনা বিনিয়োগ বিপুল পরিমাণে হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বালুচ জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো পাকিস্তানি বাহিনী ও বহিরাগত প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে আসছে। তারা অভিযোগ করে, তাদের জমি, সম্পদ ও সম্পদ লুট করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বালুচ জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও দেখুনঃ কাশ্মীরি রিফিউজিদের সঙ্গে দেখা করেননি কখনো! ইরানে খামেনেয়ি শেষকৃত্যে হাজির মেহবুবা
নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। আহতদের উদ্ধার করে কাছাকাছি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ প্রথমে কম সংখ্যা স্বীকার করে এবং পরে তথ্য আপডেট করে।একজন স্থানীয় বালুচ যুবক, যিনি নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভয়ে থাকি।
আরও দেখুনঃ ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদ্বারা গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান, কড়া নিন্দা ভারতের
সেনাবাহিনী আর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মাঝে আটকে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কোনো পক্ষই আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।” অনেক পরিবার এখন গোয়াদার ও জিওয়ানি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।বালুচিস্তানে এ ধরনের হামলা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিএলএসহ অন্যান্য বালুচ সংগঠন চিনা প্রকল্প, পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটি ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করে, বালুচ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব গোষ্ঠীকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বলে, বহিরাগত শক্তি তাদের মদত দিচ্ছে।


