উত্তাল বাংলাদেশ! একাধিক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন

bangladesh-unrest-fire-attack-on-leading-media-offices-dhaka

ওসমান হাদির মৃত্যুতে বাংলাদেশে ফের অশান্তির আবহ (Bangladesh unrest)। রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা কাওরানবাজারে অবস্থিত দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে শুরু হওয়া এই হামলা ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক মহল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ—সব মহলই একে স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১২টার দিকে কাওরানবাজার এলাকায় প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করেই কয়েকশো লোক জমায়েত হয়। এরপর লাঠিসোঁটা হাতে তারা অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং অফিসের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে পড়ে যান ভেতরে থাকা সংবাদকর্মীরা।

   

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “এখানে কয়েকশো লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছেন। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।” তবে এই হামলায় ঠিক কারা অংশ নিয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক লাইভ ভিডিও ও ফুটেজে দেখা যায়, একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা হাতে অফিস চত্বরে ঢুকে জানালার কাচ ভাঙছে, সাইনবোর্ডে আঘাত করছে এবং বাইরে আগুন জ্বালাচ্ছে। কিছু ভিডিওতে ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া কাওরানবাজার এলাকা এবং আতঙ্কিত মানুষের চিৎকারও শোনা যায়। এই সব দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলার সময় প্রথম আলোর অফিসের ভেতরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মী আটকে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুন ও ভাঙচুরের মধ্যে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি, তবু পরিস্থিতি যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সামাজিক অস্থিরতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উত্তেজনার আবহেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বরাবরই বিভিন্ন সময়ে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছে। তবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দুটি প্রভাবশালী পত্রিকার অফিসে একযোগে হামলা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন অনেকে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলো দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের কাছে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি উঠেছে।

এই ঘটনার পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কাওরানবাজার ও আশপাশের এলাকায়। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফের উত্তাল বাংলাদেশ—এই শিরোনাম যেন আবারও বাস্তব হয়ে উঠল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এই অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা দৃঢ়ভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে দেশের গণমাধ্যমের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন