
ঢাকা: আজ ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তি (Bangladesh)। দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে ঘুড়ি ওড়ানো, পিঠেপুলি খাওয়া, নতুন ধানের আনন্দ সবই মিলে একটা উৎসবের রঙ ছড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশে এবারের ছবিটা একেবারে উল্টো। ইসলামি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো মকর সংক্রান্তিকে ‘হারাম’ বলে ফতোয়া জারি করেছে। ঘুড়ি ওড়ানো, গান বাজানো এসব করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে।
বাংলাদেশে পৌষ সংক্রান্তি ‘শাকরাইন’ নামে বিশেষভাবে পালিত হয়, বিশেষ করে পুরনো ঢাকার ধাকাইয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে। ছাদ থেকে রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে, ঘুড়ি লড়াই করে এই দিন উদযাপন করা হয়। এটা ঐতিহ্যের অংশ ঐক্য, বন্ধুত্ব ও আনন্দের প্রতীক। কিন্তু ২০২৪-এর পর থেকে দেশে ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বেড়েছে। হেফাজত-ই-ইসলাম, জামায়াত-ই-ইসলামী সহ কট্টরপন্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নারী ফুটবল, সঙ্গীত-নাটক, এমনকি ঘুড়ি উৎসবকেও ‘ইসলামবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করছে।
ইরানের খামেনিই সরকারের সমর্থনে ভারতে বিক্ষোভ
তারা দাবি করছে, এসব হিন্দু-উৎসবের প্রভাব, যা ইসলামের সঙ্গে যায় না।সম্প্রতি বিভিন্ন ইসলামি নেতা ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়া ও মসজিদে ঘোষণা করেছে যে মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ালে বা সঙ্গীত বাজালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু জায়গায় হুমকির খবর এসেছে ঘুড়ি উড়লে দল বেঁধে বাধা দেওয়া হবে। এই প্রতিবাদের ফলে অনেক হিন্দু পরিবার আতঙ্কিত।
পুরনো ঢাকার কলতা বাজার, ধোলাইখাল, গেন্ডারিয়া এলাকায় যেখানে শাকরাইনের উৎসব সবচেয়ে জমজমাট হয়, সেখানে এবার অনেকে ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত থাকার কথা ভাবছেন।এই ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির ছবি তুলে ধরছে। ২০২৪-এর পর থেকে ইসলামি গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয়। তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি তুলেছে লালন ফকিরের স্মরণসভা, বসন্ত উৎসব, নারী খেলাধুলা সবকিছুতেই বাধা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু ঘুড়ির বিরুদ্ধে নয়, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার ঢাকাইয়া সম্প্রদায়, যারা এই উৎসবকে হৃদয়ে ধারণ করে, তারা বলছেন, “ঘুড়ি উড়ানো আমাদের ঐতিহ্য, এটা ধর্মের বিরুদ্ধে নয় এটা আনন্দের।”










