নয়াদিল্লি: দিল্লিতে শেখ হাসিনার আমলের প্রাক্তন মন্ত্রীরা (Bangladesh)বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সংবাদ সম্মেলন করে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন তারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন নির্বাচন কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য, অবাধ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনা-শিবির নির্বিঘ্নে ইউনুস প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করছে।শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় এই সংবাদ সম্মেলন হয়। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রধান বক্তা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আমেরিকা ও ব্রিটেনে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা।
চাঁদে ছুটি উদযাপন করুন! হোটেল তৈরি হতে চলেছে চাঁদে
এটাই ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রথম এমন খোলা সংবাদ সম্মেলন।হাসান মাহমুদ বলেন, মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যোগ্য নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ তারা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনুস সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর লুটপাট ও পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে, আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যাকারীদের ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। তিনি ডিপু চন্দ্র দাসের মতো হিন্দু যুবকের লিঞ্চিংয়ের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এটি সরকারের অক্ষমতা ও অসহিষ্ণুতার প্রমাণ।মহিবুল হাসান চৌধুরী ইউনুস সরকারের অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কথা স্বীকার করলেও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে। সেই রিপোর্টে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, ইউনুস সরকার এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে দমন করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচন আওয়ামী লীগ ছাড়া হলে তা ‘করোনেশন’ হবে, নির্বাচন নয়।
লক্ষ লক্ষ ভোটারকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। তারা জাতিসংঘের সুপারিশ উল্লেখ করে বলেন, কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। হাসান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাকে বাদ দিলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না।এই সংবাদ সম্মেলন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।
হাসিনা দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন, এবং ভারত তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ইউনুস সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অ্যান্টি-ইন্ডিয়া মন্তব্যের কারণে। ভারত বারবার অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে।
