লাগাতার হিন্দু খুনের প্রতিবাদে সরব পদ্মাপাড়ের বুদ্ধিজীবী মহল

লাগাতার হত্যাকাণ্ড, সাম্প্রদায়িক হিংসা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে (mob violence)এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন পদ্মাপাড়ের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। ঢাকাসহ সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ নাগরিক, শিক্ষক, নারী-শিশু ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-mob-violence-protest-intellectuals

লাগাতার হত্যাকাণ্ড, সাম্প্রদায়িক হিংসা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে (mob violence)এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন পদ্মাপাড়ের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। ঢাকাসহ সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ নাগরিক, শিক্ষক, নারী-শিশু এবং বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতি দিয়েছেন ৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

এই বিবৃতিতে সাংবাদিক শুভ চন্দ্র শীলসহ স্বাক্ষরকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, ধারাবাহিক সহিংসতা এবং মব তৈরি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শিক্ষকদের প্রকাশ্যে হেনস্তা, নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সংঘটিত হামলা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে বলে তাঁদের দাবি।

   

ভারতে এসে হাসিনার মন্ত্রীদের বিদ্রোহে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

বুদ্ধিজীবীদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ধর্মের নামে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীতে শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ একাধিক নাগরিক খুন হয়েছেন। চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সমাজে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের নীরবতা উদ্বেগজনক বলেই মত তাঁদের।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছেন। তাই অবিলম্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনকে নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগই কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ত্রিমুখী সংঘাতে তার আঁচ এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়।

টেকনাফে সীমান্তপারের গোলাবর্ষণে একাধিক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় অবিলম্বে সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা।

শিক্ষক সমাজের উপর মব হামলার ঘটনাও বিবৃতিতে তীব্র ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে হেনস্তার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এর আগেও ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।

সবশেষে, রাজধানীসহ সারাদেশে সংঘটিত খুন, গুলি ও রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রগতিশীল নাগরিকরা। তাঁরা অবিলম্বে সব হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google