লিবিয়ায় মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে ধরা পড়লেন অসিম মুনির

ত্রিপোলি: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ফের বিতর্কে (Asim Munir)। মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করে এবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
asim-munir-rafale-s400-claims-india-pakistan-clash

ত্রিপোলি: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ফের বিতর্কে (Asim Munir)। মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করে এবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। লিবিয়ায় পাকিস্তানের তথাকথিত “ডিফেন্স টেকনোলজি” প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুনির দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমান, এস–৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সু–৩০ এমকেআই এবং মিগ–২৯ ধ্বংস করেছে।

এই দাবির পরই কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারত সরকার বা আন্তর্জাতিক কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাই এমন কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেনি। বরং সংঘর্ষের পর পাকিস্তানই দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার আবেদন জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে দাবি ওঠে। প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই পাকিস্তান এত বড় সামরিক সাফল্য অর্জন করে থাকে, তাহলে কেন যুদ্ধ থামানোর জন্য ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল ইসলামাবাদকে?

   

অনিশ্চয়তায় আইএসএল, স্মৃতিচারণায় লুইস গার্সিয়া

মে মাসের ওই সংঘর্ষে সীমান্তে উত্তেজনা চরমে উঠলেও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তখন স্পষ্ট জানায়, ভারতের কৌশলগত সম্পদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। কোনও যুদ্ধবিমান বা এস–৪০০ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা সরকারি ভাবে কখনও স্বীকার করা হয়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট ইমেজিং সংস্থা বা ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মেও পাকিস্তানের দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি।

তার পরও আসিম মুনিরের এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে এবং বিদেশি বাজারে পাকিস্তানি অস্ত্র বিক্রির প্রচারের অংশ হিসেবে। লিবিয়ার মতো রাজনৈতিকভাবে অস্থির দেশে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি “যুদ্ধ-পরীক্ষিত” বলে তুলে ধরাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাফাল বা এস–৪০০-এর মতো উন্নত সিস্টেম ধ্বংস হলে তার প্রভাব শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকত না, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলেও তা আলোড়ন তুলত। অথচ বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। বরং সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, আইএমএফ ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

সমালোচকদের একাংশ সরাসরি আসিম মুনিরকে “ফেল মার্শাল” বলেও কটাক্ষ করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যদি পাকিস্তান সত্যিই যুদ্ধ জিতে থাকে, তবে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হল কেন? কেনই বা সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করল ইসলামাবাদ?

এই বক্তব্যের মাধ্যমে আসিম মুনির মূলত ভারতবিরোধী আবেগকে উস্কে দিয়ে দেশের ভেতরে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি শক্ত করতে চাইছেন বলেও মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। ইমরান খানকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারব্যবস্থার উপর সেনা প্রভাবের অভিযোগ এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের আবহে সেনাপ্রধানের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে “ডাইভারশন স্ট্র্যাটেজি” হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত মুনিরের দাবির সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রের মতে, নয়াদিল্লি এই ধরনের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তব তথ্য ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার উপরই ভরসা রাখছে। সব মিলিয়ে, আসিম মুনিরের এই মন্তব্য শুধু ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কেই নয়, পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। যুদ্ধ জয়ের দাবি আর যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা এই দুইয়ের ফারাকই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google