ইরানের নির্দেশেই ট্রাম্প খুনের সুপারি! আদালতে স্বীকারোক্তি পাক নাগরিক আসিফের

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুনের সুপারি নিয়েছিলেন তিনি (Asif Merchant)। সেই পাকিস্তানের নাগরিক আসিফ মার্চেন্টকে আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালতে সন্ত্রাসবাদ এবং খুনের জন্য ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে দোষী ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
asif-merchant-guilty-trump-assassination-plot-iran-linked

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুনের সুপারি নিয়েছিলেন তিনি (Asif Merchant)। সেই পাকিস্তানের নাগরিক আসিফ মার্চেন্টকে আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালতে সন্ত্রাসবাদ এবং খুনের জন্য ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা ইরান-সমর্থিত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত, যার লক্ষ্য ছিল আমেরিকান রাজনীতিবিদদের হত্যা করা যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন। ব্রুকলিনের ফেডারেল কোর্টে জুরিরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর এই রায় ঘোষণা করে।

আসিফ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রশিক্ষিত অপারেটিভ হিসেবে আমেরিকায় এসেছিলেন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে।ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। আসিফ মার্চেন্ট, যিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একজন ব্যবসায়ী এবং প্রাক্তন ব্যাঙ্কার, আমেরিকায় এসে একটি হোটেলে থাকেন। তিনি একজন পরিচিতের মাধ্যমে দুজন হিটম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

   

আরও দেখুনঃONGC-তে চাকরির সুযোগ, বেতন ১২ লাখ; এই তারিখের মধ্যে আবেদন করুন

কিন্তু সেই দুজন আসলে ছিলেন আন্ডারকভার এফবিআই এজেন্ট। আসিফ তাদের সামনে একটি ন্যাপকিনে ছবি এঁকে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গুলি চালানো, প্রতিবাদকারী ভাড়া করে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাতে খুনি পালাতে পারে, এবং কোনো বাড়ি থেকে গোপন নথি বা ইউএসবি চুরি করা। তিনি ৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেন এবং বলেন, লক্ষ্য হবে “এমন কেউ যে পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের ক্ষতি করছে”।

তিনি ট্রাম্প, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং নিকি হ্যালির নাম উল্লেখ করেন।প্রসিকিউটররা বলেন, আসিফ আইআরজিসি-র নির্দেশে কাজ করছিলেন। তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ পাচারে সাহায্য করেছিলেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে। ২০২২-২৩ সাল থেকে তিনি ইরানি গুপ্তচরদের সঙ্গে কাজ করেন। পরে আইআরজিসি তাকে আমেরিকায় পাঠায় রাজনৈতিক হত্যা ও নথি চুরির জন্য। তিনি পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

এফবিআই তার ল্যাপটপে ট্রাম্পের সমাবেশের ছবি এবং ট্রাম্প-বাইডেনের ছবি পায়।ট্রায়ালে আসিফ নিজের সাক্ষ্য দেন। তিনি দাবি করেন, ইরান তাকে বাধ্য করেছে। তার তেহরানে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার আর কোনো উপায় ছিল না। পরিবারকে বাঁচাতে হয়েছে।” তিনি স্বীকার করেন যে আইআরজিসি-র একজন হ্যান্ডলার তাকে তিনজনের নাম দিয়েছিল ট্রাম্প, বাইডেন, হ্যালি।

কিন্তু তিনি বলেন, পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। জুরি তার এই দাবিকে গ্রহণ করেনি। মাত্র দুই ঘণ্টার আলোচনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।এই রায় ঘোষণার পর আমেরিকার জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, “ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসন আসিফ মার্চেন্টকে পাঠিয়েছিল আমেরিকায় অশান্তি ও খুনের জন্য। এফবিআই তা ব্যর্থ করে দিয়েছে।” আসিফের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যখন আমেরিকা-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ইরান আমেরিকান মাটিতে প্রতিশোধ নিতে কীভাবে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহার করছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.