তেহরান: ফের বড় ধাক্কায় টালমাটাল ইরান। ইরানের বাসিজ বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার আসাদুল্লাহ বাদফর (Asadollah Badfar)যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বাসিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত কমান্ডার আসাদুল্লাহ বাদফর। জানুয়ারী মাসে সরকার বিরোধী প্রতিবাদে শত শত প্রতিবাদীকে খুন করেছিলেন বলে অভিযোগ। এই হামলায় তার নিহত হওয়া ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য আরেকটা বড় ধাক্কা, কারণ বাসিজ হলো রেজিমের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অভ্যন্তরীণ মিলিশিয়া।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল, যা ইরান সরকারের বিরোধী চ্যানেল, প্রথমে এই খবর প্রকাশ করে। তাদের রিপোর্ট অনুসারে, আসাদুল্লাহ বাদফর ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীনে বাসিজের প্রধান। তিনি আর্মড ফোর্সেস জেনারেল স্টাফের সুপ্রিম বাসিজ সেক্রেটারিয়েটের প্রাক্তন প্রধানও ছিলেন। যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় তাকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। ইজরায়েলি মিডিয়া যেমন য়নেট নিউজ এবং অন্যান্য সূত্রও এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আরও দেখুনঃ ব্রহ্মসে মুগ্ধ ফিলিপিন্স! বড় অঙ্কের ব্যাবসার পথে ভারত
আমির সারফাতি-র মতো মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা টেলিগ্রামে লিখেছেন, “ইরানের বাসিজ প্রধান আসাদুল্লাহ বাদফরকে ইজরায়েলি হামলায় নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।” বাসিজ ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে গঠিত হয়েছে, যা আইআরজিসি-র অধীনে কাজ করে এবং প্রতিবাদ দমন, আদর্শ প্রচার এবং জনগণের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়।এই নিহতের পেছনে রয়েছে জানুয়ারির বিক্ষোভ। ইরানে নতুন করে অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি দাম বৃদ্ধি এবং নারী অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
বাসিজের সদস্যরা লাঠিচার্জ, গুলি, গ্রেফতার এবং নির্যাতন চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। আসাদুল্লাহ বাদফরকে এই নৃশংস দমনের মূল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিরোধী মিডিয়া বলছে, তিনি “শত শত প্রতিবাদীকে খুন করেছেন”। এই অভিযানে হাজার হাজার গ্রেফতার, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বাসিজের এই ভূমিকা ইরানের জনগণের মধ্যে ঘৃণার কারণ হয়েছে।যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চলছে।
অভিযানের দশম দিনে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, আজ সবচেয়ে তীব্র হামলা হবে। এতে ইরানের নিউক্লিয়ার সাইট, মিসাইল বেস, কমান্ড সেন্টার এবং এখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নেতৃত্বকেও লক্ষ্য করা হচ্ছে। আসাদুল্লাহ বাদফরের নিহত হওয়া দেখায় যে, অভিযান শুধু বাইরের পরিকাঠামো নয়, রেজিমের অভ্যন্তরীণ শক্তিকেও দুর্বল করছে।




















