ক্যানিং: প্রত্যেকদিন সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদ মাধ্যমে পরকীয়ার (Canning Home Guard death case)পরিণতি নিয়ে কিছু না কিছু খবর নজরে আসেই। আর সেই পরকীয়ার ফাঁদে পড়ে করা অপরাদের তদন্ত বা শাস্তির ভার পড়ে প্রশাসনের উপরে। কিন্তু খোদ পুলিশের মধ্যেই যদি অংকুরিত হয় পরকীয়ার বীজ, তবে কি হয় তার পরিনাম। ঠিক এমনই ঘটনায় হতবাক ক্যানিংবাসী ।
ক্যানিং থানার মহিলা হোমগার্ড রেশমি মোল্লা ওরফে গুলজান পারভীন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই ক্যানিং থানারই সাব ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যের সঙ্গে। সায়ন ভট্টাচার্য বিবাহিত এবং তার স্ত্রী বর্তমান। স্ত্রী কে গোপন করে বেশ চলছিল প্রেম পর্ব, হঠাৎই তাল কাটল। রবিবার ক্যানিং থানার পুলিশ ব্যারাক থেকে উদ্ধার হল রেশমি ওরফে গুলজানের ঝুলন্ত দেহ।
হিন্দুদের জন্য ৫০ টি আসনই চাই! মেডিক্যাল কলেজের সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গুলজানকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। থানার মধ্যে যে পুলিশ আবাসনে থাকত ওই মহিলা হোমগার্ড সেই ঘরে আত্মহত্যা করে বলে জানা গিয়েছে। ঠিক কি কারনে মৃত্যু তা এখনো স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। গুলজানের মৃত্যুতে ক্যানিং থানায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। গুলজানের কাকা অভিযোগ করেছেন তার ভাইঝির মৃত্যুর জন্য দায়ী সাব ইন্সপেক্টর সায়ন। নিহত হোমগার্ডের পরিবার থেকে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
তবে সাব ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য আপাতত পলাতক। এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নজরদারি ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, থানার মধ্যেই কর্মরত দুই জনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কীভাবে এমন পরিণতির দিকে গড়াল, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত ছিল।তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে গুলজানের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং সাম্প্রতিক আচরণ।
পাশাপাশি থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও সহকর্মীদের বয়ানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে করা হলেও, পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৃত্যুর জন্য প্ররোচনার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ক্যানিং থানার মধ্যেই চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সহকর্মীদের একাংশের মতে, কর্মস্থলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং সমস্ত সাক্ষ্য খতিয়ে দেখা হবে।” সব মিলিয়ে, ক্যানিং থানার এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং পুলিশ প্রশাসনের ভিতরে কর্মপরিবেশ, মানসিক চাপ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নজর তদন্তের দিকে আদৌ কী কারণে এই মৃত্যু এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা, তার উত্তরই দেবে পরবর্তী তদন্ত।




















