মিলন পণ্ডা, হলদিয়া: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার হল। দেহ উদ্ধার ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি। এবার খুন হতে হল এক বিজেপি কর্মী। বুধবার বিকেলে মহিষাদল বিধানসভার হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের বাঁশখানা জালপাই এলাকায় হলদি নদীর পাড় থেকে মহাদেব বিশ্বাস (৪২) নামে এক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আর এরপরেই একে অপরের পাল্টা অভিযোগে রাজনীতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহাদেবের বাড়ি মহিষাদল বিধানসভার বাড় উত্তরহিংলী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁশখানা জালপাই এলাকায়। মহাদেব পেশায় মৎস্যজীবী। মঙ্গলবার বিকেলে মাছ ধরার জন্য বেরিয়ে যান মহাদেব। আর এরপর বুধবার হলদি নদীর পাড় থেকে মহাদেবের মৃতদেহ দেখতে পান মহাদেবের স্ত্রী।
মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। গোটা ঘটনায় মৃতকর্মীর পরিবারের তরফ থেকে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মৃতের বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপির দাবি, তৃণমূল চক্রান্ত করে তাদের কর্মীকে এভাবে খুন করেছে। বুধবারের এই ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
এদিকে মৃত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে যান বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলবল। বিশ্বনাথ বলেন, “তৃণমূল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আমাদের কর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের পরিকল্পিত খুন। মহিষাদলে আগে এই ধরনের রাজনীতি ছিল না।”
এদিনের এই ঘটনার পর মহিষাদল বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী তিলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি এখন লাশের রাজনীতি করছে। পারিবারিক ঘটনাকেও তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ওরা নিজেদের হার বুঝতে পেরে এসব করছে। এসব করে কিছু লাভ হবে না।” যদিও এই ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারে বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে বিজেপি কর্মীর এরূপ দেহ উদ্ধারে রাজনৈতিক মহলে চড়ছে পারদ। বিজেপি সূত্রে খবর, মৃত মহাদেব তাদের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের জন্য দুদিন আগেই বিজেপির সমর্থনে ফ্ল্যাগ, পোষ্টার বেঁধেছেন মহাদেব। আর এরপর তৃণমূলের তরফ পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে মহাদেবকে। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে৷ এই ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় ভবানীপুর থানার পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।




















