উত্তরবঙ্গে গৌতমের বাড়ছে সাংগঠনিক দায়িত্ব!

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম দেব। এবার তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত।

gautam-deb-resigns-as-siliguri-mayor-to-focus-on-tmc-organisational-role

পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব (Gautam Deb)। বৃহস্পতিবার রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। যদিও প্রশাসনিকভাবে ইস্তফা গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূল কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা।

সূত্রের খবর, ইস্তফা জমা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তারক্ষীর সুবিধাও ছেড়ে দিয়েছেন গৌতম দেব। ফলে তাঁর মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

সম্প্রতি তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা (সমতল) চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের সাংগঠনিক কাজকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতেই প্রশাসনিক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই আগামী দিনে মাঠে নেমে কাজ করতে পারেন গৌতম দেব।

তবে পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—শিলিগুড়ি পুরনিগমের পরবর্তী মেয়র কে হবেন? ইতিমধ্যেই শাসকদলের অন্দরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডে একাধিক অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের নাম সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত দলীয়ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজ্যের মন্ত্রী থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন গৌতম দেব। শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

এখন নজর শাসকদলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। নতুন মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক রণকৌশলে গৌতম দেবের নতুন ভূমিকা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।