কলকাতা: ‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মাছ-ডিম খাওয়া বন্ধ হবে না!’ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারের কড়া জবাব দিয়ে শুক্রবার এভাবেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আবেগকে ছুঁতে এবার হাইভোল্টেজ ভোটের ময়দানে রীতিমতো চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে খাদ্যাভ্যাস।
তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব ও অভিযোগ
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকদিন ধরেই জনসভা থেকে দাবি করছেন, ভিনরাজ্যের দল বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ, মাংস এবং ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেবে। তৃণমূলের এই ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব এবং খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের আশঙ্কার মোকাবিলা করাটাই এখন গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপির পালটা কৌশল
অমিত শাহের আশ্বাসের পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও আসরে নেমেছেন। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলার বেশিরভাগ মানুষ আমিষভোজী এবং খোদ বিজেপি নেতারাও আমিষ খান। এমনকি, তৃণমূলের প্রচার রুখতে এক বিজেপি প্রার্থীকে হাতে মাছ ঝুলিয়ে অভিনব প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ভোটের অঙ্কে ‘আমিষ’ বিতর্ক
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলার প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। বাঙালির কাছে মাছ নিছকই খাবার নয়, এটি পুজো থেকে বিয়ে, সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক সাংস্কৃতিক আবেগ। যদিও বিহার বা অসমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যে মাংস বা গোমাংস নিয়ে বিজেপির কড়া আইনি পদক্ষেপ রয়েছে, তবে কেরল বা বাংলার মতো রাজ্যে তারা স্থানীয় আবেগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ, ফল প্রকাশ ৪ মে। তার আগে বাংলার রাজনীতিতে এখন ভোট-কৌশলের অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঙালির প্রিয় ‘মাছ’!




















