
আসানসোলের পোলো ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM MODI) ‘বিজয় সংকল্প’ সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সভার ঠিক আগেই কুলটি বিধানসভা এলাকায় প্রায় ২০০টি বাসের বুকিং বাতিল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এই ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস, ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিজেপির অভিযোগ, তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সভায় নিয়ে আসার জন্য (PM MODI) কুলটি এলাকা থেকে প্রায় ২০০টি বাস আগেভাগেই বুক করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সমস্ত বাসের বুকিং বাতিল করে দেওয়া হয়। বিজেপির দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত রাজনৈতিক বাধা। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার অভিযোগ করেছেন, “গণতন্ত্রে এভাবে গুণ্ডাগিরি চলতে পারে না। আমাদের কর্মী-সমর্থকদের সভায় আসা আটকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে।”
বিজেপির আরও দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র চাপের মুখেই বাস মালিকরা বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস মালিকদের অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে বুকিং বাতিল করতে বলা হয়। এর ফলে বহু কর্মী-সমর্থক নির্ধারিত সময়ে সভায় পৌঁছতে সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি বিজেপির।এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেও অভিযোগের তীর ছুড়েছে বিজেপি। বিশেষ করে কুলটি এলাকার তৃণমূল প্রার্থী তথা মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, অভিজিৎ ঘটক, যিনি আইএনটিটিইউসি-র জেলা সম্পাদক, তাঁর নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা এটিকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সভা করতে না দেওয়ার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাস মালিকরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই বুকিং বাতিল করেছেন এবং এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নিজেদের সংগঠনগত দুর্বলতা ঢাকতেই এই ধরনের অভিযোগ তুলছে। তাদের মতে, এত বড় সভার জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকায় বিজেপি এখন দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়া উচিত নয়। বাস বুকিং বাতিল হওয়ার ফলে শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, সাধারণ যাত্রীদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহণ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

