হঠাৎ ব্রেক ব্রিগেডের হরিনাম কর্মসূচিতে! মতুয়া রাজনীতিতে বাড়ল প্রশ্ন

Matua Harinam Sankirtan Postponed

ব্রিগেডের মাঠে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের যে ঘোষণা করা হয়েছিল, তা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই স্থগিত হয়ে গেল এই কর্মসূচির পরিকল্পনা। মমতাবালাপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসাই পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার নিজেই এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

অরাজনৈতিক ভাবেই হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন

এর আগে সাংবাদিক বৈঠক করে নান্টু হালদার জানিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাবেই ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হবে এবং সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। কিন্তু এই ঘোষণার পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। মমতাবালা ঠাকুরকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কার্যত পুরো উদ্যোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সাংসদের কথায়, “আমি শুনেছি ঠিকই, কিন্তু এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি। উনি হয়তো ব্যক্তিগত ভাবেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন।”

   

এরপরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নান্টু হালদারের কাছে ফোন আসে। তাঁর দাবি, স্বয়ং মমতাবালা ঠাকুর তাঁকে ফোন করে জানান, আপাতত এই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হচ্ছে। নান্টু হালদার বলেন, “মা (মমতাবালা ঠাকুর) আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। উনি যখন আমাদের নির্দেশ দেবেন, তখন নতুন করে দিনক্ষণ ঠিক করে জানানো হবে।”

আচমকা স্থগিত কেন?

তবে এই আচমকা স্থগিতের নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নান্টু হালদারের ব্যাখ্যা, “মায়ের এখন রাজ্যসভা চলছে। সেখানে এসআইআর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি এই মুহূর্তে অত্যন্ত ব্যস্ত। সেই কারণেই আপাতত এই উদ্যোগ স্থগিত রাখা হয়েছে।”

এই ঘোষণা ঘিরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের অন্দরে অস্বস্তিও বেড়েছে। সূত্রের খবর, লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে গোসাই পরিষদের সভাপতি নিজেই চাপে পড়েছেন। এমনকি তাঁর পদ নিয়ে সংগঠনের অন্দরে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তাঁকে পদ থেকে সরানো হতে পারে। যদিও এই সমস্ত দাবিকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নান্টু হালদার।

এসইআর নিয়ে মতুয়া সমাজের মধ্যে অস্বস্তি

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মতুয়া সমাজের মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে। ভোটার তালিকা পরিমার্জনের সময় শুধুমাত্র সিএএ-র আবেদনপত্রের ভিত্তিতে মতুয়াদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রথমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে, তারপর ভোটাধিকার। এই অবস্থান একদিকে যেমন মতুয়া সমাজের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, তেমনই ভোটের আগে রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে বিজেপির উপরও।

এই প্রেক্ষাপটে ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের পরিকল্পনা স্থগিত হওয়াকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কর্মসূচির বাতিল হিসেবেই দেখছেন না রাজনৈতিক মহল। বরং মতুয়া রাজনীতির অন্দরের টানাপোড়েন ও আসন্ন ভোটের সমীকরণের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে দেখছেন অনেকেই।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন