
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata), আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রস্তুত করতে গিয়ে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও বিদ্বেষ ছড়ানো ভাইরাস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মুর্শিদাবাদে এক জনসভায় দেওয়া তাঁর তীব্র ভাষণে মমতা (mamata) বিজেপির “গুন্ডাদের” বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা তাঁকে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে বাধা দিয়েছে। এছাড়াও, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভারতের সীমানা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।
মমতা বলেন (mamata)
মমতা (mamata) বলেন, “আপনি (মোদীকে উদ্দেশ্য করে) যখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন, তখন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করতে পারেন না। তার বদলে ভারতের দেখাশোনা করুন। ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দিন এবং নোংরা রাজনীতি খেলবেন না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) সহায়তায় তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রচার চালানোর জন্য একটি “ষড়যন্ত্র” করেছে। তিনি বলেন, “আমি এই ষড়যন্ত্রের বেশিরভাগ উদঘাটন করেছি। আমি এটি গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু গণমাধ্যম বিজেপির হাতে খেলে মিথ্যা ছড়িয়েছে।”
মুর্শিদাবাদে মমতার প্রথম সফর
মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক হিংসার পর এটি ছিল মমতার (mamata) প্রথম সফর। গত মাসে তিনি এই সহিংসতার জন্য “বহিরাগতদের” দায়ী করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমরা দাঙ্গা চাই না।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর সরকার রাজ্যে নতুন ওয়াকফ আইন কার্যকর করবে না, যদিও এটি কীভাবে সম্ভব তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, “কিছু বহিরাগত এটি ঘটিয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। আমরা তাদের এবং তাদের ষড়যন্ত্র প্রকাশ করব।”
এই হিংসার পর এনএইচআরসি একটি দল মুর্শিদাবাদ পরিদর্শন করেছিল, যা মমতাকে প্রশ্ন তুলতে প্ররোচিত করে যে এই কমিশন, যা কেন্দ্রের অধীনে কাজ করে, বিজেপি-শাসিত রাজ্য যেমন উত্তর প্রদেশে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এত তৎপর কিনা। তিনি বলেন, “এনএইচআরসি কি মণিপুর বা উত্তর প্রদেশে গিয়েছিল? তারা মুর্শিদাবাদে দ্রুত পৌঁছে গিয়েছিল।”
ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সুনীল ছেত্রীদের উত্তরসূরিরা
ওয়াকফ আইন সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক
ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, যা গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হয়, মুসলিমদের দাতব্য সম্পত্তি ও সম্পদ পরিচালনার পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির বাধ্যবাধকতা। এই আইন সংসদে তীব্র বিতর্কের মধ্যে পাশ হয় এবং এর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনগুলি আগামী সপ্তাহে নতুন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ২৫ এপ্রিল দাখিল করা হলফনামায় এই সংশোধনীগুলির পক্ষে সাফাই গেয়েছে এবং সংসদ কর্তৃক পাশ করা এই “সাংবিধানিক বৈধতার ধারণা” সহ আইনের উপর “সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ” এর বিরোধিতা করেছে। সরকার দাবি করেছে, এই সংশোধনীগুলি ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করবে। তবে, বিরোধীরা এটিকে “লক্ষ্যবস্তু আইন” হিসেবে সমালোচনা করেছে এবং বলেছে যে এটি সংবিধানের বিধান লঙ্ঘন করে।
মুর্শিদাবাদে হিংসা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় হিংসায় তিনজন নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ মালদা জেলায় পালিয়ে যান। এই হিংসা ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ , সুতি এবং জঙ্গিপুরে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মমতা দাবি করেছেন, এই হিংসা বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ষড়যন্ত্রের ফল। তিনি বলেন, “বিএসএফ সীমান্ত পাহারা দেয়, রাজ্য সরকার নয়। তাহলে কেন তারা বাংলাদেশ থেকে বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দিল?”
বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করেছে, মমতা হিংসা উসকে দিচ্ছেন এবং তাঁর সরকার হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী বলেন, “বাংলায় হিংসা হচ্ছে কারণ মমতা এটিকে সমর্থন করছেন।”
২০২৬ নির্বাচনের প্রস্তুতি
মমতার (mamata) এই তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। রাজ্যে টানা দুটি বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর তৃণমূল চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া। মুর্শিদাবাদে সহিংসতা তৃণমূলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জেলায়।
মমতা (mamata) বিজেপির “বিভাজন ও শাসন” নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, “বিজেপি হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। ইমামদের বলছি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করুন, বিজেপির ফাঁদে পড়বেন না।” তিনি ইন্ডিয়া জোটের দলগুলিকে একত্রিত হয়ে এই আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ
মমতা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে মোদী সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরিবর্তে সীমান্তের দিকে নজর দিন। ভারতকে বিপর্যয় থেকে বাঁচান।” এই হামলায় ২৬ জন পর্যটক এবং একজন কাশ্মীরি নিহত হয়েছেন, যা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata) মুর্শিদাবাদ সফর এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র আক্রমণ ২০২৬ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। ওয়াকফ আইন নিয়ে সহিংসতা এবং পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে এই বিতর্ক কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে, তা নির্বাচনের ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।










