কলকাতা: মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের হাই-ভোল্টেজ ধর্না কর্মসূচি ঘিরে দুপুর গড়াতেই তৈরি হল এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে পুলিশি অনুমতি মিললেও, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে খোদ শাসকদলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ধর্মতলায় পৌঁছাতে শুরু করলেও, নেত্রী এখনও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনেই রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের অন্দরে ও কলকাতার রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে কি শেষ মুহূর্তে বাতিল বা স্থগিত হতে চলেছে এই ধর্না? (mamata banerjees dharna program)
পুলিশি অনুমতি মিললেও কাটছে না ধোঁয়াশা
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের এই ধর্না কর্মসূচির জন্য লিখিত অনুমতি দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তবে তা দেওয়া হয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য। দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ৩ ঘণ্টার জন্য এই ধর্না প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সবুজ সংকেত মেলার পর থেকেই সভাস্থলে তৎপরতা শুরু করে দেয় জোড়াফুল শিবির।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের একঝাঁক হেভিওয়েট নেতানেত্রী। কিন্তু ধর্না শুরুর অফিশিয়াল সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে না আসায় খোদ দলীয় কর্মীদের মধ্যেই জল্পনা বাড়তে শুরু করেছে। সেই ভাবে চোখে পড়ছে না ভিড়ও।
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সোমবার পুলিশের তরফে জানানো হয়, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে নয়, ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি করতে পারবে রাজ্যের বিরোধী শিবির৷ সেই মতো আবেদন করতেও বলা হয়৷ যার বিরোধীতা করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ৷ তিনি বলেন, কেন আবার তাঁরা নতুন করে আবেদন করতে হবে? ক্ষোভের সুর শোনা যায় তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ বলেছে ওয়াই চ্যানেলে ধর্না করার অনুমতি নিতে হবে। এটা কি সম্ভব? তাহলে আগে বলা হল না কেন? এটা তো বিরোধী স্বরকে দামানোর চেষ্টা।”




















