কলকাতা: বিধানসভায় আজ পাস হয়েছে সরকারের আনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল (Kunal Ghosh)। এই দুই বিল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল নিয়ে তিনি বলেছেন, “সবাই গুন্ডামি দমন চায়। কিন্তু আমাদের তো আইপিসি, সিআরপিসি ছিল, এখন নতুন কোডও এসেছে।
পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার কাছে সব নিয়ম-কানুন ও ধারা আছে। মুখ্যমন্ত্রীর আনা এই বিল সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও নাগরিকের যে অধিকার সংবিধান দিয়েছে, তার সঙ্গে এই বিলের সরাসরি সংঘাত রয়েছে। বড় বড় ফাঁক রয়েছে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তাঁরা বিল পাস করিয়ে নিয়েছেন।”কুনাল ঘোষ আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে পুলিশের ক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়ানো হচ্ছে, যা নাগরিক স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে।
আরও দেখুনঃ লুকোচুরি শেষ! কর্ণাটক থেকে ধৃত তৃণমূলের রমেন্দুকে বারমুডা প্যারেড পুলিশের
তিনি মনে করেন, যে আইন রয়েছে সেই আইনই যথেষ্ট। নতুন বিলের প্রয়োজন ছিল না। এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়েও কুনাল ঘোষ স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইউসিসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতি আমরা নজর রাখছি। খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে এবং একটি কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের নেতৃত্ব পুরো বিষয়টি দেখছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাঁদের কিছু বলার আছে, তাঁরা কমিটির কাছে বলতে পারেন। সবার মতামত নিয়ে, আদর্শভাবে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নিয়ম তৈরি করা উচিত।”কুনাল ঘোষের এই বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। তিনি জানিয়েছেন, দল ইউসিসি নিয়ে খোলা মনে আলোচনায় রাজি, কিন্তু কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে।রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই দুটি বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাবলিক সেফটি বিল নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি পুলিশের একচ্ছত্র ক্ষমতা বাড়াবে এবং বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে ইউসিসি নিয়ে সরকারের ঘোষণা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর চাপ ফেলতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।



