
কয়লাকাণ্ডের পুরনো মামলার তদন্তে সকাল থেকেই অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) (ED RAID) । এই অভিযানের অংশ হিসেবে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে পৌঁছায় ইডি। সেখানেই ঘটেছে তাৎক্ষণিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই অফিস চত্বরের বাইরে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে আইপ্যাকের অফিসে প্রবেশ করেন।
প্রায় ২০ মিনিট তিনি অফিসে থাকেন। ঢোকার সময় তাঁর হাতে কিছু ছিল না, কিন্তু বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দেখা যায় সবুজ ফাইল। হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ এবং আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকের ফোনও তিনি সঙ্গে নিয়ে বের হন। একই সঙ্গে, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও ইডি অভিযান চালানো হয়। ওই অফিস থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তোলা হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ইডি এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের আর্জি জানিয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যাতে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিতে পারে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চলাকালীন বাধাদান এবং ফাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। হাইকোর্টের অনুমতি মেলায় আগামীকালই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইডি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। কোনো রাজনৈতিক দল বা পার্টি অফিসকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, “সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন।” এই বিবৃতিতে ইডি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ঘটনা শুধু তদন্তে বাধা দেওয়ার নয়, আইন এবং সংস্থার কর্তব্যের ওপর সরাসরি আঘাত।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ এবং এই ফাইল বহনের ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইডি-র (ED RAID) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তল্লাশি এবং নথি বাজেয়াপ্তি শুধুমাত্র তদন্তের স্বার্থে করা হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, আইনের চোখে সকলের জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন কার্যকরী হয় না। কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে এই মামলার প্রক্রিয়া এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মামলার শুনানি হলে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি, ফাইল ছিনতাই এবং সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের আইনি দিকগুলো খোলাসা হবে। এছাড়াও আদালত নির্ধারণ করবে, তদন্তকারী সংস্থার সীমা এবং অধিকার কী পরিমাণে প্রযোজ্য।










