
কয়লাকাণ্ডের তদন্তের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল রাজ্যে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তল্লাশি চালাল আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে। তল্লাশির পরবর্তী দৃশ্য আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই অফিসে প্রবেশ করেন এবং কিছু সময় পর বেরিয়ে আসেন। তবে, শুধু তা-ই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেরিয়ে আসা ফোল্ডারটি একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। সল্টলেকের আইপ্যাকের (I-PAC) অফিস থেকেও একাধিক ফাইল গাড়িতে তোলা হয়। বাংলার রাজনীতিতে এটি একটি বেনজির দৃশ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইডি তল্লাশি চালানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অফিসে ঢোকেন এবং বেশ কিছু সময় সেখানে কাটান। তাঁর হাতে কোনো কিছু ছিল না, তবে যখন তিনি বেরিয়ে আসেন, তখন তাঁর হাতে ছিল একটি সবুজ ফোল্ডার। সেই ফোল্ডারে হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ এবং আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের ফোনও ছিল বলে খবর। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা মেনে নেওয়া যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর দলের আইটি অফিস থেকে হার্ড লিস্ট, প্রার্থীর তালিকা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি।
ইডি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তাদের অভিযান পুরোপুরি আইনি ভিত্তিতে হয়েছে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখানে নেই। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কয়লা দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চলছে এবং এই অভিযানের সঙ্গে রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রচারের কোনো সম্পর্ক নেই। ইডি আরও বলেছে, তদন্তের সময় সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে অফিসে প্রবেশ করে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইপ্যাকের অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বেআইনি এবং তদন্তের কাজকে ব্যাহত করেছে।” এই ঘটনার মাধ্যমে ইডি একদিকে তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে তারা রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের হস্তক্ষেপকে বিশেষভাবে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছে। এটি এক বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে আইপ্যাক, যা মূলত নির্বাচনী প্রচার ও কৌশলগত সংস্থা হিসেবে পরিচিত, কয়লা দুর্নীতির মামলার সাথে যুক্ত হলো? ইডি জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি অভিযান মূলত কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ এবং এতে আইপ্যাকের কোনো সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকা নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন ভোটকুশলী সংস্থার অফিসে হঠাৎ তল্লাশি চালানো হলো এবং এর সাথে কী ধরনের তথ্য সংযোগ থাকতে পারে?










