
বাংলার ভোটে বাংলা জানা প্রার্থী পেলনা বামফ্রন্ট? প্রচার শুরু করতেই সিপিআইএমের (CPIM) কর্পোরেট লুক প্রার্থী সায়রা শাহ হালিমকে ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠছে। তবে ওসব পাত্তা দিতে নারাজ সায়রা। বহুজাতিক সংস্থা উইপ্রোর প্রাক্তন কর্মী তেড়েফুঁড়ে নেমে পড়েছেন বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে।
বালিগঞ্জের বিধায়ক সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। বিজেপি ত্যাগী বাবুল এখন মমতার অনুগ্রহে তৃণমূলী হয়ে ভোটে লড়ছেন। কলকাতার অভিজাত বালিগঞ্জ জুড়ে বাবুলের প্রচার মানেই তাঁর কণ্ঠের এক দু কলি জনপ্রিয় হিন্দি গান ও রবীন্দ্র সঙ্গীত। আর প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএমের সায়রা হালিমের রয়েছে ঝলকানি উপস্থিতি।
দলীয় রাজ্য সম্মেলনের মাঝে দলেরই ভিডিও চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএম প্রার্থী সায়রা হালিম স্পষ্ট হিন্দিতে বলেছেন, ‘বামপন্থী অদল বদল নেহি করতা’ (বামপন্থীরা এদল সেদলে যাতায়াত করেনা)। হিন্দিতে তিনি যা বলেছেন তার বাংলা করলে হয়, তৃণমূল কংগ্রেল ও বিজেপির মধ্যে দল বদলাবদলিতে মানুষ বিরক্ত। তাই গত কয়েকটি ভোটে বামপন্থীদের ভোট বেড়েছে। রাজ্যবাসীকে স্বচ্ছ প্রতিনিধি বাছতে হবে।
সায়রা শাহ হালিম প্রার্থী হবার পর সিপিআইএম সহ রাজনৈতিক মহল আলোড়িত। কারণ, সায়রা হালিম বাম নেতা ও গরীবের চিকিৎসক বলে পরিচিত ফুয়াদ হালিমের স্ত্রী। তাঁর শ্বশুর প্রয়াত হাসিম আবদুল হালিম বাম জমানার টানা তিন দশকের বিধানসভার অধ্যক্ষ। কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর ভাইঝি সায়রা শাহ হালিম।
অভিজাত বংশ, লেখিকা, জাতীয়স্তরের সংবাদ মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধী অন্যতম আলোচক সায়রা এতদিন রাজ্যে প্রায় অপরিচিত ছিলেন। আগাগোড়া ইংরাজি মাধ্যমে শিক্ষিত সায়রা বাংলা বলতে হোঁচট খান। দু একটা কথা যে বলতে পারেন না তেমন নয়। তবে বিশুদ্ধ হিন্দিতে স্বচ্ছন্দ।
প্রশ্ন খোদ সিপিআইএমের মধ্যেই। কেন বাঙালি প্রার্থীর অভাব পড়েছিল নাকি? ক্রমে বড় হচ্ছে প্রশ্নের চেহারা। তবে সেসব একেবারে কর্পোরেট স্টাইলে উড়িয়ে রাস্তা ঘাটে নেমে পড়েছেন সায়রা। যিনি এতদিন প্রায় বঙ্গজীবনের ভোটরঙ্গে আড়ালেই ছিলেন।










